সৌদি আরবের বিমান ঘাঁটিতে ডজন ডজন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হুথিদের
সৌদি আরবের খামিস মুশাইত শহরের কিং খালিদ বিমান ঘাঁটিতে বিশাল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী।
আন্তর্জাতিক: যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান তীব্র ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই পারমাণবিক নীতি নিয়ে বড় ধরনের হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের মুখপাত্র আব্বাস গৌদারজি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে চাইলেই তেহরান বেরিয়ে আসতে পারে এবং নিজেদের পারমাণবিক নীতিতে যেকোনো সময় পরিবর্তন আনাও ‘সহজেই সম্ভব’।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক বক্তব্য দেন, যা বিশ্ব রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
সাক্ষাৎকারে ওয়াশিংটনের সাথে বিদ্যমান সম্পর্ক ও কৌশল নিয়ে কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করেন ইরানি পার্লামেন্টের মুখপাত্র। গৌদারজির বক্তব্যের মূল দিকগুলো:
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তেহরানের বিরোধটি অত্যন্ত মৌলিক। ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে কেবল ‘শক্তির ভাষা ও ক্ষমতার যুক্তি’ কার্যকর হতে পারে।
যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শান্তির কথা বলছেন, তারা মূলত ইরানের ওপর একধরনের অঘোষিত ‘আত্মসমর্পণ’ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’ (Resistance Front)-কে দুর্বল করে বা পশ্চিমা শক্তি ও তার মিত্রদের পুনর্বিন্যাসের সুযোগ দেয়—এমন যেকোনো আলোচনার প্রস্তাবই এক মারাত্মক ‘কৌশলগত ভুল’।
কার্যকর ১৯৭০ সালে কার্যকর হওয়া পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (Non-Proliferation Treaty)।
অবস্থান ইরান এনপিটির স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্রের বিকাশ ঠেকানোর প্রতিশ্রুতির আওতাধীন।
সাম্প্রতিক হুমকি মার্কিন চাপের জবাবে চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসা ও পারমাণবিক নীতি বদলে ফেলার সুযোগ রয়েছে।
প্রেসিডেন্টের বক্তব্য প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানান, পরমাণু বোমা বানানোর ইচ্ছা ইরানের নেই।
গৌদারজির এই চরম আলটিমেটামের একদিন আগেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভিন্ন সুর প্রকাশ করেছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার সমস্ত অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, “ইরানের যদি পারমাণবিক বোমা বানানোর কোনো উদ্দেশ্যই থাকত, তবে দেশটি কখনোই এনপিটি চুক্তিতে যোগ দিত না।”
তবে পার্লামেন্টের মুখপাত্রের সর্বশেষ বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ‘নিয়ন্ত্রণে’ রাখতে বা প্রতিহত করতে তেহরান এখন আরও বেশি কঠোর ও কৌশলী সামরিক সিদ্ধান্তের কথা ভাবছে।