পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে ১০০ দিনের বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন
বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে টানা ১০০ দিনের বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে, যার ফলে চরম বিপর্যয় নেমেছে।
আন্তর্জাতিক: রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ভূরাজনৈতিক চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই প্রথমবারের মতো চাঞ্চল্যকর এক তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন নিশ্চিত করেছে যে, কক্ষপথে অর্থাৎ মহাকাশে তাদের অস্ত্র মোতায়েন করা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সেক্রেটারি (বাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা) ট্রয় মেইঙ্ক গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের এক অনুষ্ঠানে মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি প্রকাশ্যে নিয়ে আসেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, “বরাবরের মতো আজও আমরা নিশ্চিত করে বলছি, নতুন কোনো হুমকি যেখানেই দেখা দিক না কেন, তা মোকাবিলার জন্য আমরা সদা প্রস্তুত থাকি।”
ট্রয় মেইঙ্ক জোর দিয়ে বলেন, “শুধু আকাশেই নয়, মহাকাশেও আমাদের আধিপত্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও জানান, বর্তমান স্পেস ফোর্সের কাছে কক্ষপথে মোতায়েন করা এমন অস্ত্র রয়েছে, যা যেকোনো শত্রুপক্ষের হামলা থেকে মার্কিন যৌথ বাহিনীকে সফলভাবে রক্ষা করতে সক্ষম। তবে প্রশ্নোত্তর পর্বে নিজের এই বক্তব্য নিয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দিতে রাজি হননি তিনি। তাঁর বক্তব্যের শব্দচয়ন ‘খুব ভেবেচিন্তে করা হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেন এই শীর্ষ কর্মকর্তা। ‘এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস ম্যাগাজিন’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রয় মেইঙ্ক যে প্রযুক্তির কথা ইঙ্গিত করেছেন, তাতে শত্রুপক্ষের যেকোনো স্যাটেলাইটকে প্রয়োজনে ‘ধ্বংস বা অকার্যকর করে দেওয়ার’ সক্ষমতাও থাকতে পারে। উল্লেখ্য, মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনে আন্তর্জাতিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও, সেগুলোতে গণবিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে ‘স্পেস ফোর্স’ প্রতিষ্ঠা করে মহাকাশকে ‘বিশ্বের নবীনতম যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। গত বছর ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে সুরক্ষিত রাখতে ‘গোল্ডেন ডোম’ (Golden Dome) নামক একটি বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন, যার মধ্যে মহাকাশভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। স্নায়ুযুদ্ধের সময়ের রোনাল্ড রিগ্যানের ‘স্টার ওয়ার্স’ বা এসডিআই (SDI) প্রকল্পের কথা মনে করিয়ে দেওয়া এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
গত মার্চ মাসে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ট্রাম্পের ‘গোল্ডেন ডোম’ পরিকল্পনাকে ‘মহাকাশে সামরিকীকরণ’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই কৌশলগত পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি ‘গুরুতর হুমকি’। এছাড়া বিগত দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত ও রাশিয়ার মতো মহাশক্তিধর দেশগুলো স্যাটেলাইট–বিধ্বংসী অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে আসায় মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতা নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।