মানবতাবিরোধী অপরাধ: ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ শীর্ষ নেতার মামলার রায় মঙ্গলবার
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদের, সাদ্দাম হোসেনসহ ৭ শীর্ষ নেতার রায় মঙ্গলবার ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল-২।
ঢাকা: আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় সরাসরি দলীয় প্রতীক না থাকলেও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে। ইতিমধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দুই সিটিতে সরাসরি প্রার্থী ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা না করলেও কৌশলগত ও পর্দার আড়ালে তাদের শক্ত প্রার্থীরাই মাঠে নামছেন।
বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্র থেকে জানা গেছে, দলটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মো. আবদুস সালামকে প্রার্থী হিসেবে প্রায় নিশ্চিত করেছে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁদের দুই সিটির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময়ই তাঁদের নাগরিক সেবার পাশাপাশি সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ফলে বিএনপি আনুষ্ঠানিক সমর্থন বা ঘোষণা না দিলেও দুই সিটিতে তাদের প্রার্থী নিয়ে বড় কোনো অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির উত্তরের সম্ভাব্য প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা এবং দক্ষিণের প্রার্থী আবদুস সালাম ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও দলীয় সংগঠনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তারা ভোটের লড়াইয়ে নামছেন।
অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীও ঢাকার দুই সিটিতে তাদের শক্তিশালী প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। দলটি ঢাকা উত্তরে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে মোড়া আবু সাদিককে (সাদিক কায়েম) সমর্থন দেবে বলে জানা গেছে। মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির এবং দক্ষিণের সম্ভাব্য প্রার্থী সাদিক কায়েম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সম্প্রতি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের প্রক্রিয়া তাদের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ধারায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সরাসরি প্রার্থী ঘোষণা করে বেশ চমক সৃষ্টি করেছে। দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম উত্তর সিটিতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম ঘোষণা করেছেন। আসিফ মাহমুদের জন্য এটি প্রথম সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতি হলেও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে। দুই নেতাই সম্প্রতি নিজেদের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে যথাক্রমে উত্তর সিটির ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড ও দক্ষিণ সিটির ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন ঢাকা সিটি নির্বাচন মূলত তিন রাজনৈতিক শক্তির জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার এক বড় পরীক্ষা হতে চলেছে। বিএনপি যেখানে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও পোড় খাওয়া নেতাদের সামনে রাখছে, জামায়াতে ইসলামী গুরুত্ব দিচ্ছে নগর সংগঠন ও ছাত্ররাজনীতির পরিচিত মুখগুলোকে। অন্যদিকে, এনসিপি ভরসা রাখছে নতুন রাজনৈতিক পরিচিতি ও তারুণ্যের শক্তির ওপর। যদিও দলীয় প্রতীক ছাড়া এই নির্বাচনে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি-জামায়াতের নীরব সমর্থন ভোটের ফলাফল নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।