ইমরান খানের বন্দিদশা ও সুচিকিৎসা নিয়ে মুখ খুললেন মাইকেল হোল্ডিং
ইমরান খানের বন্দিদশা ও সুচিকিৎসা না পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উইন্ডিজ কিংবদন্তি মাইকেল হোল্ডিং। তিনি বলেন, খুনির সঙ্গেও এমন আচরণ করা হয় না।
খেলাধুলা: পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান, দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতি মহসিন নাকভির হাত থেকে ট্রফি তুলে দেওয়া হলে ভারতীয় নারী ক্রিকেট দল পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না—এমনটাই আগেই এসিসিকে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)। সেই পূর্বঘোষিত অবস্থান থেকেই সরে আসেনি ভারত।
গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে রেকর্ড অষ্টমবারের মতো শিরোপা জয় করে ভারতীয় নারী দল। তবে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী এসিসি সভাপতি মহসিন নাকভির কাছ থেকে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকে তারা।
এ বিষয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিসিসিআই সেক্রেটারি দেবজিৎ সাইকিয়া বলেন, “আমরা এসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে এসিসি চেয়ারম্যানকে আগেই জানিয়েছিলাম যে, পুরুষ ক্রিকেট দলের ক্ষেত্রে যা করা হয়েছিল, ঠিক একইভাবে ট্রফি দেওয়া হলে আমরা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নেব না। তারা নিজেদের অবস্থান থেকে সরেনি, তাই আমাদের সামনে কোনো বিকল্প ছিল না।”
উল্লেখ্য, এর আগে গত বছর ভারতীয় পুরুষ দলও একই কারণে নাকভির হাত থেকে ট্রফি ও মেডেল নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। যার ফলে সেই ট্রফিটি এখনো এসিসির দপ্তরেই পড়ে আছে এবং সূর্যকুমার যাদবের দল ট্রফি ছাড়াই মঞ্চে আনন্দ উদযাপনে অংশ নিয়েছিল।
ভারত ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বৈরী কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি আরও তলানিতে ঠেকেছিল ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পেহেলগামে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার পর। এরপর ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানের পর দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে।
মহসিন নাকভির হাত থেকে ট্রফি না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে সাইকিয়া বার্তা সংস্থা আইএএনএসকে জানান, পেহেলগামের ঘটনার পর সাধারণ নাগরিকদের পক্ষ থেকে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার তীব্র চাপ রয়েছে। তবে সরকারের নীতি অনুযায়ী বহুজাতিক টুর্নামেন্টে অন্য দেশগুলোর বিপক্ষে খেলতে বাধ্য থাকলেও, তার মানে এই নয় যে বৈরী দেশের কোনো গুরুত্বপূর্ণ নেতার (যিনি দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছেন) হাত থেকে তারা ট্রফি গ্রহণ করবেন। বহুজাতিক টুর্নামেন্টে খেলা মানেই প্রতিপক্ষের সব শর্ত বা পরিস্থিতি অন্ধভাবে মেনে নেওয়া নয়—এই বার্তাটিই আবারও জোরালোভাবে দিল বিসিসিআই।