ভারতে থাকা দণ্ডপ্রাপ্তরা যেন অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে না পারে: মাহদী আমিন
ভারতে অবস্থানরত পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা যাতে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করতে না পারে, সে বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সহযোগিতা চেয়েছেন মাহদী আমিন।
টাঙ্গাইল: অটোভ্যানের হ্যান্ডেলে হাত রেখে প্রতিদিনের মতো টাঙ্গাইলের সখীপুর, সাগরদিঘী কিংবা কচুয়া-ভালুকা সড়কে ছুটে চলেছেন ইয়ার মাহমুদ। সংসারের চাকা সচল রাখা এবং বিদেশ যাওয়ার সময়ের জমে থাকা ঋণ পরিশোধ করাই তাঁর নিত্যদিনের সংগ্রাম। তবে তাঁর অটোভ্যানে উঠলে এক শ্রেণির যাত্রীকে কোনো ভাড়া দিতে হয় না। মাদ্রাসাছাত্র, আলেম, হাফেজ, মুফতি, ইমাম ও মুয়াজ্জিন—যাদের তিনি ভালোবেসে ‘কোরআনের পাখি’ বলে ডাকেন, তাঁদের কাছ থেকে ভাড়ার বদলে তিনি শুধু একটি দোয়া চান।
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালিয়াপাড়া-ঘোনারচালা এলাকার মো. হাসান আলীর ছেলে ৪১ বছর বয়সি ইয়ার মাহমুদের জীবনে এই নিয়তের পেছনে রয়েছে এক মর্মান্তিক ইতিহাস। ২০১১ সালে তাঁর ঘরে জন্ম নেওয়া প্রথম সন্তান পৃথিবীর আলো দেখার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই মারা যায়। নবজাতক সন্তানকে হারানোর সেই গভীর বেদনা আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। সন্তান হারানোর সেই ক্ষণেই তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে নিয়ত করেছিলেন—আল্লাহ যদি তাঁকে আরেকটি পুত্রসন্তান দান করেন, তবে সেই সন্তানকে কোরআনের হাফেজ বানাবেন এবং আজীবন মাদ্রাসাছাত্র ও কোরআনের সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষদের সম্মান জানাবেন।
এর পর জীবিকার তাগিদে ২০১৪ সালে গ্রিসে পাড়ি জমালেও বৈধ কাগজপত্রের অভাবে ১১ মাস পরই দেশে ফিরতে হয় তাঁকে। সেই বিদেশ যাত্রার চার-পাঁচ লাখ টাকার ঋণ আজও তাঁর ঘাড়ে চেপে আছে। ২০১৫ সালে একটি অটোভ্যান কিনে জীবিকার নতুন পথ বেছে নেওয়ার পর থেকেই নিজের সেই নিয়তকে জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে নেন তিনি। বর্তমানে তাঁর অটোভ্যানের পেছনেও লেখা রয়েছে—‘কোরআনের পাখিদের জন্য ভাড়া ফ্রি।’
নিজের সংসারে অভাব-অনটন থাকলেও প্রতিদিন অন্তত ১০ থেকে ১২ জন কোরআনের সেবককে বিনা ভাড়ায় গন্তব্যে পৌঁছে দেন ইয়ার মাহমুদ। এ বিষয়ে তাঁর সরল অভিব্যক্তি, ‘আল্লাহ আমাকে দিচ্ছেন। মাদ্রাসাছাত্রদের কাছ থেকে ভাড়া না নিলে মনে হয় ওই দিন আয় আরও বেশি হয়। মানুষ থাকলে জীবনে সফলভাবে ভালো কাজ করা সম্ভব।’
স্থানীয় ইমাম হাফেজ আইন উদ্দিন আল আজাদ ও যাত্রী মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, আজকাল যেখানে সামান্য ভাড়ার জন্য ঝামেলা হয়, সেখানে ইয়ার মাহমুদের এমন নিঃস্বার্থ ও মানবিক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয় এবং বিরল। বাবা হাসান আলীও ছেলের এমন মানবিক কাজে গর্ববোধ করেন। অটোভ্যান চালিয়ে ঋণ পরিশোধ ও সংসার চালানোর পাশাপাশি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ‘কোরআনের পাখিদের’ এভাবেই ভালোবেসে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এই পরিশ্রমী মানুষটি।