ছাত্রদের ওপর যৌন নিপীড়ন ও মারধরের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক এরশাদ হালিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাতে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে রাজধানীর শেওড়াপাড়ার নিজ বাসা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পরে আদালতে হাজির করা হলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী গতকাল রাতেই মিরপুর মডেল থানায় অধ্যাপক এরশাদ হালিমের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও মারধরের অভিযোগ এনে মামলা করেন। ওই শিক্ষার্থীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষাসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের কথা বলে ওই শিক্ষক তাঁকে শেওড়াপাড়ার বাসায় ডেকে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন এবং পরে বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য হুমকি দেন। অভিযোগকারী শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, এরপরও কয়েকবার ভয় দেখিয়ে তাঁকে বাসায় ডেকে নিয়ে নিপীড়ন ও মারধর করা হয়েছে।
অধ্যাপক হালিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর গতকাল থেকেই রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। রাতে টিএসসিতে সংবাদ সম্মেলন করেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী আবু নাঈম দাবি করেছেন, এখন পর্যন্ত তথ্য-প্রমাণসহ কমপক্ষে ১২ জন শিক্ষার্থী তাঁদের কাছে ওই শিক্ষকের যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন। অন্য এক শিক্ষার্থী অভীক চক্রবর্তী বলেন, এর আগেও জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা এই শিক্ষক সম্পর্কে তাঁদের সাবধান করেছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক হালিমকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবি জানান।
আজ শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) অধ্যাপক হালিমকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী শ্যামল কুমার রায় দাবি করেন, তাঁর মক্কেল নির্দোষ। তিনি বলেন, বিভাগীয় প্রধান হওয়ার সুযোগ আসায় অন্য শিক্ষকেরা তাঁকে ফাঁসিয়েছেন। তবে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এরশাদ হালিমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অধ্যাপক হালিমকে সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে এবং অভিযোগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলে পাঠানো হয়েছে।