দেশের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত ১ কোটি ৪০ লাখ: ইরানি
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, দেশের সুরক্ষায় ১ কোটি ৪০ লাখ নাগরিক জীবন দিতে প্রস্তুত। সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার সর্বশেষ তথ্য জানুন।
নয়াদিল্লি, জম্মু ও কাশ্মীর: ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির জনাকীর্ণ সড়কে ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহতের ঘটনায় তদন্তে নেমে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের একটি বড় মডিউল ভেঙে দেওয়ার দাবি করেছে। এই নেটওয়ার্ক পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ জয়েশ-ই-মোহাম্মদ (JeM) এবং আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ (AGuH)-এর সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, দুই কাশ্মীরি চিকিৎসক, একজন ইসলামী চিন্তাবিদ এবং উত্তর প্রদেশের এক নারীসহ মোট সাতজনকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের মতে, গত সোমবার লালকেল্লার কাছে যে গাড়িটি বিস্ফোরিত হয়, সেটির চালক ছিলেন ২৯ বছর বয়সী কাশ্মীরি চিকিৎসক উমর নবী।
বিস্ফোরণের ২৬ দিন আগে শ্রীনগরের নওগামে পাকিস্তান-সমর্থিত জয়েশ-ই-মোহাম্মদের নামে হুমকি দিয়ে একটি প্যাম্ফলেট দেখা যাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়।
তদন্তের শুরুতে সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে ২৪ বছর বয়সী ইসলামী চিন্তাবিদ ইরফান আহমেদকে আটক করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও দুই চিকিৎসকের সন্ধান মেলে:
আদিল রাঠোর: কুলগামের বাসিন্দা, যিনি উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর থেকে গ্রেপ্তার হন। তাঁর লকার থেকে অ্যাসল্ট রাইফেল উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ।
মুজাম্মিল শাকিল গণাই: ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই চিকিৎসকের কাছ থেকে ২,৯০০ কেজি দাহ্য রাসায়নিক ও অস্ত্র উদ্ধারের দাবি করা হয়েছে।
পুলিশ বিবৃতিতে জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা কাশ্মীরের স্থানীয় কমান্ডার জাকির রশিদের গড়া নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া এজিইউএইচ-কে নতুন করে সক্রিয় করতে কাজ করছিল।
নয়াদিল্লির ঘটনায় অভিযুক্ত উমর নবীর পরিবার শ্রীনগরে হতবাক। নবীর ভাবী মুজামিল আখতার বলেছেন, নবীকে ও তার স্বামীকে পুলিশ নিয়ে গেছে এবং নবীর মাকেও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে। তারা দাবি করেছেন, নবী একজন অসাধারণ ছাত্র ছিলেন এবং তিন দিনের মধ্যেই তার বাড়ি আসার কথা ছিল।
এদিকে, গ্রেপ্তার হওয়া মুজাম্মিল গণাইয়ের বাবা শাকিল গণাইও একই কথা বলেছেন। তিনি আল–জাজিরাকে জানান, তাঁর ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফরিদাবাদ থেকে কাশ্মীরে আনা হয়েছে, কিন্তু কেন – সে ব্যাপারে তারা কিছুই জানতেন না।
এই ঘটনার পর ভারতের মূলধারার সংবাদমাধ্যমে ইসলামবিদ্বেষ ও কাশ্মীরবিরোধী মনোভাবের নতুন ঢেউ তৈরি হয়েছে।
গুরুগাঁও পুলিশ সেখানকার হাউজিং সোসাইটিগুলোকে কাশ্মীরি বাসিন্দাদের তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাশ্মীরি ভাড়াটিয়াদের বের করে দেওয়ার উসকানি দেওয়া হচ্ছে।
অধিকারকর্মী নাসির খুয়েহামি বলেছেন, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় থাকা প্রায় দেড় লাখ কাশ্মীরি শিক্ষার্থী চরম উদ্বেগে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনা কাশ্মীরে সশস্ত্র গোষ্ঠী মোকাবিলায় ভারতের নীতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।