সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরির নেপথ্যে ছিল শুধুই লোভ
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরির ঘটনার তিন মাস পর তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। গোয়েন্দারা নিশ্চিত করেছেন এর পেছনে কোনো নাশকতা ছিল না।
রাজনীতি: গণভোটের রায় ৭০ ভাগ মানুষ ‘হ্যাঁ’র পক্ষে দিলেও সরকার তা অগ্রাহ্য করে জনগণের সঙ্গে অপমান করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, জনগণের সেই অপমানের প্রতিশোধ নিতে এবং আট দফা দাবি আদায়ে তাঁরা রাস্তায় নেমেছেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ১১–দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী লংমার্চ গাজীপুরের ভোগরা বাইপাসে পৌঁছালে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনাদের দাবিতে আমরা রাস্তায় নেমেছি। কোনো দলীয় স্বার্থে নয়, ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে নেমেছি।’ জনগণের স্বার্থে ঘোষিত এই আট দফা দাবি যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে বলেও তিনি সরকারকে হুঁশিয়ারি দেন।
তিনি আরও বলেন, শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত রংপুরের উদ্দেশে শুরু হওয়া এই লংমার্চ জনগণের ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছে দেওয়া, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, রাস্তাঘাট ও হাটবাজারসহ সর্বত্র চাঁদাবাজি বন্ধ এবং একটি দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার দাবিতে পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধ এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধেও এই লংমার্চ।
এর আগে আজ সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ১১–দলীয় ঐক্যের এই লংমার্চ শুরু হয়। উদ্বোধনী সমাবেশে জামায়াতের আমির সরকারকে সাম্প্রতিক অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্রুত জনগণের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
উদ্বোধনী ও পথসভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ ১১–দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা।
উল্লেখ্য, এবারের লংমার্চের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল গঠন, জুলাই গণহত্যার বিচার, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সারসংকট সমাধান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর ১১–দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।