নড়াইলে ৫ দিনব্যাপী বইমেলার উদ্বোধন
নড়াইল জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আয়োজনে পাঁচদিনব্যাপী বইমেলার উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক।
সাভার: সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা এলাকায় পোশাক কারখানার সামনে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী লরিতে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত পাঁচজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে জামগড়া এলাকার প্রীতি গ্রুপের একটি পোশাক কারখানার চত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর পরপর কয়েকটি বিকট শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে শুরু হয় হুড়োহুড়ি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হঠাৎ বিকট শব্দে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কারখানার কয়েকটি ভবনের জানালার কাচ ভেঙে যায়। আতঙ্কে বের হতে গিয়ে কয়েকজন শ্রমিক আহত হন।
বিস্ফোরণের পর গ্যাস সিলিন্ডারবাহী লরিতে আগুন ধরে যায়। একটি সিলিন্ডার বা এর অংশ ছিটকে কারখানার বাইরে গিয়ে পড়ে। এতে সেখানে থাকা এক নারী নিহত হন। নিহত ওই নারীর নাম জয়নব বেগম (৫৫) বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে লরির ভেতর থেকেও কয়েকজনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আগুনে মরদেহগুলো মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনার পর কারখানার নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ দল আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে খবর পেয়ে জিরাবো ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা জোন-৪-এর উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ঘটনাস্থলে গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। সিলিন্ডারগুলো থেকে অবশিষ্ট গ্যাস অপসারণ এবং পুরো এলাকা তল্লাশির কাজ চালানো হয়।
বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত পাঁচজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেলেও ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্যাস সিলিন্ডারবাহী লরি থেকে বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করেন। বিস্ফোরণের কারণ, সিলিন্ডার পরিবহন ও সংরক্ষণে কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।