ডলারের দাম বেড়ে ১২৩ টাকা ৩ পয়সা
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশের মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের গড় দাম বেড়ে ১২৩ টাকা ৩ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। পাউন্ড, রুপি, ইউয়ান ও সিঙ্গাপুরি ডলারের দামও বেড়েছে।
অর্থনীতি: বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর প্রায় সাড়ে তিন বছর পর প্রথাগত ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই) এবং রিটেইল ব্যাংকিংয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সিটিজেনস ব্যাংক। ব্যাংকটির লক্ষ্য, বড় করপোরেট ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থায়ন বাড়ানো।
ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও ডিজিটাল ব্যাংকিং নিয়ে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন সিটিজেনস ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলমগীর হোসেন।
সিটিজেনস ব্যাংক জানিয়েছে, পল্লি অঞ্চলে সংগৃহীত আমানত স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কৃষি খাতে পুনর্বিনিয়োগে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে গ্রামীণ এলাকায় উপশাখা সম্প্রসারণের পাশাপাশি এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এমডি আলমগীর হোসেনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ব্যাংকের মোট লেনদেনের প্রায় ৪২ শতাংশ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সম্পন্ন হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০২৮ সালের মধ্যে এই হার ৭৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্যাংকটির দাবি, ২০২৬ সালের জুনভিত্তিক হিসাবে সিটিজেনস ব্যাংকের শ্রেণীকৃত বা খেলাপি ঋণের হার ০ দশমিক ৩২ শতাংশ। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা এই হারকে তাদের ঋণ পোর্টফোলিওর একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখছে।
এমডি আলমগীর হোসেন বলেন, ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ঋণ বিপণন ও ঝুঁকি মূল্যায়ন বিভাগকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ঋণ অনুমোদন ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা পর্ষদের ব্যবসায়িক হস্তক্ষেপ না থাকার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় তুলনামূলক কম সুদে ঋণ দেওয়ার পাশাপাশি নতুন ও তরুণ উদ্যোক্তাদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সিটিজেনস ব্যাংক।
ব্যাংকটির ভাষ্য, অনেক নতুন উদ্যোক্তার প্রচলিত আর্থিক বিবরণী বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় তাঁদের ঋণপ্রাপ্তিতে সমস্যা হয়। এ ক্ষেত্রে পরামর্শক সেবার মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের প্রস্তুত হতে সহায়তা করা হচ্ছে।
পেপারলেস ও ক্যাশলেস ব্যাংকিং সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দিচ্ছে ব্যাংকটি। এর অংশ হিসেবে ইন্টারনেট ব্যাংকিং অ্যাপ আধুনিকায়নের পাশাপাশি বাংলা কিউআর ও আন্তঃলেনদেনযোগ্য (ইন্টারঅপারেবিলিটি) সুবিধা উন্নয়নের কাজ চলছে।
ব্যাংকটির লক্ষ্য, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বাড়িয়ে গ্রাহকদের দৈনন্দিন লেনদেন আরও সহজ করা এবং নগদ অর্থের ব্যবহার কমানো।
আগামী ছয় মাসে গ্রামীণ ও আধা-শহুরে অর্থনীতিকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে আরও ২৭টি শাখা ও উপশাখা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির এমডি।
একই সঙ্গে দেশব্যাপী এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অতিক্ষুদ্র ঋণ প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গেও যৌথভাবে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা বলছে, সুশাসন বজায় রাখা, ঋণঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং খেলাপি ঋণ কম রাখার পাশাপাশি এসএমই ও রিটেইল গ্রাহকদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণই তাদের আগামী দিনের কৌশলের মূল ভিত্তি।