মাল্টার চেয়ে ১৪৬ গাড়ি আমদানিতে শুল্ক কর কম
প্রতি কেজি মাল্টার আমদানি মূল্য প্রায় ৮৭ টাকা হলেও শুল্ক-কর দিতে হচ্ছে প্রায় ১০৭ টাকা। মোট শুল্ক-করভার ১২১.৭৮ শতাংশ, যা ১৪৬টি গাড়ির চেয়েও বেশি।
ঢাকা: জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণে তাঁর বাড়িতে নতুন ঘর নির্মাণ, মা-বাবার থাকার সুব্যবস্থা এবং কবরস্থানের সৌন্দর্যবর্ধনে ১ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় সেই অর্থ অবমুক্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) এই অর্থ ছাড় করা হয়।
সোমবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জেলা পরিষদ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব স্বাক্ষরিত অর্থ অবমুক্তির চিঠি রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ছাড়পত্রটি চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফাইন্যান্স অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
অর্থ অবমুক্তির চিঠি অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ‘জেলা পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা’ খাতের ‘বিশেষ বরাদ্দ’ উপখাত থেকে রংপুর জেলা পরিষদের অনুকূলে মোট ১০৯ লাখ টাকা বা ১ কোটি ৯ লাখ টাকা ছাড় করা হয়েছে। এর মধ্যে—
শহীদ আবু সাঈদ ফাউন্ডেশনের ঘরবাড়ি ও কবরস্থান উন্নয়নে ১ কোটি টাকা,
পীরগঞ্জ মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের সাইকেল সরবরাহে ৫ লাখ টাকা,
পীরগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও পীরগঞ্জ কছিমন নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়নে ২ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ছাড়পত্রে বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারে জেলা পরিষদের এডিপি বরাদ্দ ব্যবহার নির্দেশিকা-২০২২সহ প্রচলিত আর্থিক ও প্রশাসনিক বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত কাজ ছাড়া অন্য কোনো খাতে এই অর্থ ব্যয় করা যাবে না বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পীরগঞ্জে গিয়ে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁর বাবা-মায়ের খোঁজখবর নেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সে সময় তিনি সরকারের পক্ষ থেকে আবু সাঈদের বাড়িঘর ও কবরস্থান উন্নয়নে ১ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেন এবং প্রয়োজনে আরও অর্থ সহায়তা দেওয়ার কথা জানান।
প্রতিশ্রুতির মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে অর্থ ছাড় হওয়ায় চরম সন্তোষ প্রকাশ করেছে শহীদ আবু সাঈদের পরিবার। একই সঙ্গে বরাদ্দকৃত অর্থে শহীদ আবু সাঈদ ফাউন্ডেশন, ঘরবাড়ি ও কবরস্থানসহ নির্ধারিত প্রকল্পগুলোর কাজ যেন অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা।