গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক দূষণ রোধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশ | দৈনিক শব্দমিছিল
গুলশান-বনানী-বারিধারা-নিকেতন লেকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পানি দূষণ রোধে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
কক্সবাজারে টানা ভারী বর্ষণে এক রাতের ব্যবধানে পৃথক চার স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পেই প্রাণ হারিয়েছেন ৮ জন। বাকিদের মধ্যে একজন কক্সবাজার শহরের বাসিন্দা এবং অন্য দু’জন সদরের দরিয়ানগর ও পেকুয়া উপজেলার। রোববার রাত ১টা থেকে সোমবার দুপুরের মধ্যে এই পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনাগুলো ঘটে। এ ঘটনায় শরণার্থী শিবিরসহ পুরো জেলায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে উখিয়ার ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। সেখানে গভীর রাতে পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর ধসে পড়লে মাটির নিচে চাপা পড়ে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন—কামাল হোসাইন (৪৪), তাঁর স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং ৪ বছরের শিশুসন্তান মোহাম্মদ আনাস। অলৌকিকভাবে পরিবারের অন্য ৭ সদস্য বেঁচে গেলেও তারা গুরুতর আহত হন। উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, অত্যন্ত দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়।
এর কিছুক্ষণ পর কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। এর দেড় ঘণ্টা পর বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে একই পরিবারের আরও ৪ জন প্রাণ হারান। তারা হলেন—উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে কক্সবাজার শহরের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় আলী আকবর নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা এবং পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নে মিনহাজ উদ্দিন (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। সর্বশেষ মঙ্গলবার দুপুরে সদরের দরিয়ানগরে পাহাড়ধসে আরও এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান জানান, মৃতদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়ের পাদদেশে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এই ঘটনাকে ‘মানবসৃষ্ট হত্যাকাণ্ড’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ক্যাম্পের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় ও কিছু রোহিঙ্গার অবৈধভাবে পাহাড় কাটার কারণেই এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।