শ্বাসরুদ্ধকর ৫ গোলের রোমাঞ্চ: নবাগত কেপ ভার্দেকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা
মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ১২০ মিনিটের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। মেসির ২০তম বিশ্বকাপ গোল।
ক্রীড়া প্রতিবেদক, (মায়ামি): ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা। গ্যালারিতে আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের স্তব্ধতা আর কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভঙ্গের চরম শঙ্কা। ঠিক তখনই শুরু হলো ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম এক অবিশ্বাস্য ও জাদুকরী প্রত্যাবর্তনের গল্প।
মাত্র ১২ মিনিটের ঝড়ে সমস্ত হিসাব-নিকাশ ওলটপালট করে দিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। নাটকীয়তায় ঠাসা রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে চলমান বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল (শেষ আট) নিশ্চিত করেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে চেপে ধরে আফ্রিকান পরাশক্তি মিশর। প্রথম ১০ মিনিটে মাঝমাঠে বারবার বল হারিয়ে বেশ এলোমেলো ফুটবল খেলে আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচের ১৫ মিনিটে এই সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে মিশর। মারওয়ান আত্তিয়ার নিখুঁত ক্রস থেকে দারুণ এক হেডে বল আর্জেন্টিনার জালে পাঠান ডিফেন্ডার ইয়াসের ইব্রাহিম (১-০)।
পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচের ১৯ মিনিটেই সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। ডি-বক্সের ভেতর ফাউলের কারণে পেনাল্টি পায় তারা।
কিন্তু স্পট কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন খোদ অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ডান দিকের নিচু কোণ ঘেঁষে নেওয়া মেসির শটটি দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন মিশরীয় গোলকিপার মোস্তফা শোবের। এরপর সমতায় ফিরতে মরিয়া আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণ চালায়।
তবে ম্যাচের ২৮ মিনিটে ম্যাক অ্যালিস্টারের বুলেট হেড এবং ৩৯ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের জোরালো শট অবিশ্বাস্যভাবে রুখে দিয়ে প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনাকে হতাশায় ডুবিয়ে রাখেন মিশরের দেয়াল হয়ে ওঠা গোলরক্ষক শোবের। ফলে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।
বিরতি থেকে ফিরে আর্জেন্টিনা আক্রমণের ধার বাড়ালেও গোল পাচ্ছিল না। উল্টো ম্যাচের ৬৭ মিনিটে এক দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাক (পাল্টা আক্রমণ) থেকে গোল করে মিশরের লিড দ্বিগুণ করেন মোস্তাফা জিকো (২-০)।
২ গোল খেয়ে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে পড়া আর্জেন্টিনা তাদের আসল রূপ দেখায় ম্যাচের শেষভাগে।
ম্যাচের ৭৯ মিনিটে জাদুকর লিওনেল মেসির মাপা ক্রস থেকে দারুণ এক হেডে গোল করে ব্যবধান কমান ডিফেন্ডার ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো (২-১)। এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ৪ মিনিট পর, অর্থাৎ ৮৩ মিনিটে পেনাল্টি মিসের খেসারত তুলে ডি-বক্সের ভেতর থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-২ সমতায় ফেরান স্বয়ং লিওনেল মেসি।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে (ইঞ্জুরি টাইম) কাউন্টার অ্যাটাক থেকে মিশরের রক্ষণভাগ ভেঙে বল জালে জড়ান মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। এই গোলের মাধ্যমে ম্যাচে প্রথমবারের মতো লিড পায় আর্জেন্টিনা (৩-২)।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় এই অবিশ্বাস্য ও রোমাঞ্চকর জয় নিয়েই কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কেটে মাঠ ছাড়ে স্কালোনির দল।