নেশন অব ইসলামের ‘মাদার খাদিজা’ আর নেই
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী কৃষ্ণাঙ্গ মুসলিম সংগঠন ‘নেশন অব ইসলাম’-এর শীর্ষ নেতা লুইস ফাররাখানের সহধর্মিণী খাদিজা ফাররাখান আর নেই। গত শনিবার (২৭ জুন) ৯০…
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলকে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়েছে, এই স্পর্শকাতর সময়ে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বা হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের উসকানি বা হস্তক্ষেপের চেষ্টা হলে তার ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়া হবে।
আগামী ৪ জুলাই তেহরানে খামেনির জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে ৯ জুলাই মাশহাদে দাফনের মাধ্যমে শেষ হবে। এই সময় জুড়ে তেহরান ও মাশহাদসহ বেশ কয়েকটি শহরের আকাশসীমায় সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ইরানের সামরিক জোট খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের কমান্ডার আলী আবদুল্লাহি এক কড়া বিবৃতিতে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যেন কোনো ধরনের ভুল সিদ্ধান্ত না নেয়। দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানার চেষ্টা করা হলে সশস্ত্র বাহিনী কঠোর প্রতিশোধ নেবে।”
এর আগে বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও একই সুরে সতর্কবার্তা দেন। ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ কর্তৃক বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে লক্ষ্য করে দেওয়া এক হুমকিমূলক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আরাঘচি বলেন, ইরানের নেতৃত্ব বা জনগণের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে। এদিকে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এক বার্তায় বলেছেন, “নেতার শাহাদাত পথচলার সমাপ্তি নয়, বরং এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।”
হরমুজ প্রণালিতে কড়া নজরদারি: ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খেলার মাঠ নয়। এটি ইরানের সার্বভৌমত্বের আওতাধীন এলাকা। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সব তেলবাহী ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজকে ইরান নির্ধারিত নৌপথ ব্যবহার করতে হবে, অন্যথায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দোহায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরোক্ষ বৈঠক: এদিকে কাতারের রাজধানী দোহায় কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই দিনব্যাপী পরোক্ষ আলোচনা শেষ হয়েছে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদির নেতৃত্বে এই বৈঠকে মূলত হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল এবং ইরানের জব্দ করা অর্থ ছাড়ের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই আলোচনাকে ইতিবাচক বললেও, সূত্র জানাচ্ছে পারমাণবিক কর্মসূচির মতো মূল বিষয়গুলো এই দফার বৈঠকে ওঠেনি। খামেনির দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।