উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে তৈরি হওয়া সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ফের টেবিলে বসছে চিরবৈরী দুই দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে ওমানে অনুষ্ঠিতব্য এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগেই তেহরানের ওপর বড় শর্ত জুড়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে সব ধরনের হামলা বন্ধের প্রকাশ্য ঘোষণা এবং এই আন্তর্জাতিক নৌপথটি উন্মুক্ত রাখার আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দিলেই কেবল আলোচনা ফলপ্রসূ হবে। শনিবারের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মার্কিন প্রশাসন বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, সম্প্রতি মালবাহী জাহাজে গুলি চালানোর ঘটনাটিকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল’ বলে ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের কাছে স্বীকার করেছে তেহরান। ইরানের অভ্যন্তরীণ একটি অনিয়ন্ত্রিত ও কট্টরপন্থি গোষ্ঠী শান্তি আলোচনা ভণ্ডুল করতেই এই হামলা চালিয়েছিল বলে দাবি করেছে তারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সামাজিক মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন যে, চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাত হলেও ইরান পুনরায় আলোচনার অনুরোধ জানিয়েছে এবং ওয়াশিংটন তাতে সাড়া দিয়েছে। তবে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগের যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, গত জুনে দুই দেশের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার কথা ছিল। তবে ওমান জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত রুট ব্যবহার করতে গিয়ে তিনটি জাহাজ হামলার শিকার হলে পরিস্থিতি আবার জটিল হয়ে ওঠে। ইরান অবশ্য দাবি করছে, তাদের নিজস্ব জলসীমার বিকল্প রুটটিই একমাত্র নিরাপদ পথ। এই সংঘাতের মাঝেই হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি নতুন সংস্থা গঠনের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান, যার মাধ্যমে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ফি আদায় ও পারমিট ইস্যু করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
বর্তমান নৌ-সংকট কাটাতে ইতিমধ্যেই ওমান ও কাতারের মতো আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে। ওমানের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলে থাকছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা। তবে মার্কিন প্রশাসনের তরফ থেকে ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখার লিখিত বা প্রকাশ্য বিবৃতি না এলে তেহরানকে এর চড়া মূল্য চুকাতে হতে পারে।
সূত্র: বিবিসি।