অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন: ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও মিশরকে হারিয়ে শেষ আটে আর্জেন্টিনা
৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও লিওনেল মেসি ও এনজো ফার্নান্দেজের জাদুতে মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ আট নিশ্চিত করল আর্জেন্টিনা।
চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে আগামী বুধবার (১৫ জুলাই) টেক্সাসের আর্লিংটনে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের দুই শক্তিশালী দল স্পেন ও ফ্রান্স। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হতে যাওয়া এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগেই কথার লড়াইয়ে উত্তাপ ছড়িয়ে দিলেন স্পেনের তরুণ ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল।
কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে শেষ চার নিশ্চিত করার পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন ইয়ামাল। ফরাসিদের প্রতি একপ্রকার হুংকার ছেড়ে এই তরুণ তারকা বলেন, ফ্রান্স যদি এই মুহূর্তে কাউকে ভয় পেয়ে থাকে, তবে সেটা আমাদেরই পাওয়া উচিত। এর আগেও আমরা তাদের বড় টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিয়েছি এবং টানা দুবার হারিয়েছি। তাঁর মতে, চলতি আসরের সেরা দুটি দলই ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে, তবে স্প্যানিশ শিবিরে কোনো ভীতি নেই।
আগামী সোমবার ১৯ বছরে পা দিতে যাওয়া এই স্প্যানিশ উইঙ্গার দাবি করেন, প্রতিপক্ষ দলগুলো স্পেনের মুখোমুখি হলে নিজেদের চেনা ছন্দ হারিয়ে ফেলে। তিনি বলেন, বাইরে থেকে হয়তো মনে হতে পারে আমরা আমাদের সেরা ছন্দে নেই, কিন্তু বাস্তবতা হলো প্রায় প্রতিটি দলই আমাদের বিরুদ্ধে অতি-রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করে। এখন পর্যন্ত কোনো দলই আমাদের সঙ্গে সমানতালে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার সাহস দেখায়নি। এত বাধা সত্ত্বেও আমরা ম্যাচ জিতছি, আর দিনশেষে সেটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।
সেমিফাইনালে পা রাখার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ইয়ামাল আরও বলেন, আমরা অনেক পথ পাড়ি দিয়ে এখানে এসেছি। এখন আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো ফাইনালে ওঠা এবং এই জয়যাত্রা ধরে রাখা।
ইয়ামালের এই আত্মবিশ্বাসের পেছনে কাজ করছে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান। গত তিন বছরে বড় মঞ্চে এটি হতে যাচ্ছে স্পেন ও ফ্রান্সের তৃতীয় দ্বৈরথ। এর আগে ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনাল এবং ২০২৫ উয়েফা নেশনস লিগ—দুই আসরেই ফরাসিদের বিপক্ষে শেষ হাসি হেসেছিল স্পেন। সেই চেনা সাফল্য এবার বিশ্বকাপের মঞ্চেও ধরে রাখতে চায় তারা।
২০১০ সালের পর এটি স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল। অন্যদিকে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার হাতছানি রয়েছে ফ্রান্সের সামনে।
এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের পথচলা অবশ্য খুব একটা মসৃণ ছিল না। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের সাথে গোলশূন্য ড্রয়ের পর সৌদি আরব ও উরুগুয়েকে হারিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে তারা। এরপর অস্ট্রিয়াকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও শেষ দুটি নকআউট ম্যাচে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হয়েছে স্প্যানিশদের। যেখানে আর্সেনাল মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনোর চমৎকার গোল তাদের সেমিফাইনালের টিকিট এনে দেয়।
হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে বিশ্বকাপে ফেরা ইয়ামাল জানান, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলের জয়ই তাঁর কাছে এখন মূখ্য। প্রতিপক্ষের রক্ষণাত্মক কৌশলের কারণে নিজের চেনা খেলা পুরোপুরি মেলে ধরতে না পারলেও, দলের ফাইনালে ওঠাই এখন তাঁর প্রধান মনোযোগ।
এদিকে স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে প্রতিপক্ষ ফ্রান্সের শক্তিমত্তাকে সমীহ করলেও নিজের দলের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন। তিনি বলেন, এই ম্যাচটি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা অনেক। ফ্রান্স যে অত্যন্ত শক্তিশালী দল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে তাদের হারানোর সামর্থ্য আমাদের রয়েছে। সেমিফাইনালের মতো বড় মঞ্চে জয় পেতে হলে আমাদের সেরা ফুটবলটাই উপহার দিতে হবে।