বাংলাদেশে প্রতিভাবান ও মেধাবী তরুণ-তরুণীর কোনো অভাব নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান。 আজ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
পোস্টে জাইমা রহমান সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বেশ কয়েকজন মেধাবী শিক্ষার্থীর সঙ্গে নিজের পরিচয়ের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিজ্ঞানমেলা, স্কাউটিং, বিতর্ক, খেলাধুলা, কোডিং, সঙ্গীত ও পরিবেশ রক্ষার মতো নানা ক্ষেত্রে এই তরুণদের অর্জন সত্যিই বিস্ময়কর। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও নিজেদের দক্ষ করে তুলতে তাদের পরিশ্রম, জানার আগ্রহ ও শৃঙ্খলা প্রশংসার দাবিদার বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, এ দেশের তরুণদের মেধার কমতি না থাকলেও অল্প বয়সেই তাদের নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। আর্থিক সংকট, পারিবারিক দায়িত্ব কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার অভাবের পাশাপাশি ভিন্নভাবে সক্ষম শিক্ষার্থীদেরও প্রতিনিয়ত কঠিন লড়াই করতে হচ্ছে। সফল হওয়ার এক ধরনের মানসিক চাপও তাদের ওপর ভর করে।
তরুণদের অনুপ্রেরণা ও রোল মডেল প্রসঙ্গে জাইমা রহমান বলেন, রোল মডেল হওয়ার জন্য কাউকে বিখ্যাত বা নিখুঁত হতে হয় না। একজন হাল না ছাড়া বাবা-মা, শিক্ষার্থীর সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তোলা শিক্ষক কিংবা দূর থেকে সাহস জোগানো যেকোনো মানুষই তরুণদের আদর্শ হতে পারেন। তিনি বিশ্বাস করেন, অনুপ্রেরণার জন্য আমাদের তরুণদের সবসময় দেশের বাইরে তাকানোর প্রয়োজন নেই; বাংলাদেশেও এমন অনেক গর্ব করার মতো মানুষ আছেন, যাদের গল্প তরুণদের পথ দেখাতে পারে。
পরবর্তী প্রজন্মের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য শুধু অনুপ্রেরণাই যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি শিশুর মেধা বিকাশের সমান সুযোগ তৈরি করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। শিক্ষা, খেলাধুলা বা নতুন কিছু শেখার সুযোগ যেন কেবল ভাগ্য বা পারিবারিক ত্যাগের ওপর নির্ভর না করে, তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রবীণদের সামান্য উৎসাহ বা সহানুভূতির বার্তা একজন তরুণের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। জাইমা রহমান প্রশ্ন তোলেন, প্রতিভাবান তরুণদের যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখন আমরা তাদের পাশে দাঁড়াতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখছি কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।