বিজিপিসি’র উদ্যোগে খুলনা বিভাগের ৬০ জন সাংবাদিককে নিরাপত্তা সরঞ্জাম বিতরণ
খুলনা বিভাগে ৬০ জন সাংবাদিকের মধ্যে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট বিতরণ করল বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটি (BJPC)। বিস্তারিত পড়ুন দৈনিক শব্দমিছিলে।
নড়াইল প্রতিনিধি: দীর্ঘ আট বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা, নকশা পরিবর্তন, কারিগরি জটিলতা এবং একাধিক দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর পর অবশেষে শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে নড়াইলের বহু কাঙ্ক্ষিত কালিয়া সেতুর নির্মাণকাজ। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন চলছে শেষ ধাপের ঢালাই, সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) নির্মাণ ও ফিনিশিংয়ের কাজ। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী দুই মাসের মধ্যেই সেতুটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ।
সওজ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে একনেক সভায় প্রকল্পটি প্রথম অনুমোদন পায়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১৮ এপ্রিল প্রায় ৬৫ কোটি ৩ লাখ টাকা বাজেটে সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে ২০১৯ সালের ৩০ জুন কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা ছিল।
তবে নদীপথে নৌযান চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে স্টিল আর্চ স্প্যান সংযোজন, নকশাগত পরিবর্তন এবং নির্মাণাধীন ৯ নম্বর পিলারে একাধিকবার বালুবোঝাই বাল্কহেডের ধাক্কাসহ নানা কারিগরি জটিলতায় প্রকল্পের মেয়াদ সাত বার বাড়ানো হয়। ফলে পরবর্তীতে প্রকল্প ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে দাঁড়ায় ১৩৫ কোটি ৯২ লাখ টাকায়। বর্তমানে মূল কাঠামো ও স্টিল স্প্যানের জটিল কাজ পুরোপুরি সফলভাবে শেষ হয়েছে।
নড়াইল-কালিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের ২১তম কিলোমিটারে বারইপাড়া এলাকায় নবগঙ্গা নদীর ওপর নির্মাণাধীন ৬৫১.৮৩ মিটার দীর্ঘ এবং ১০.২৫ মিটার প্রশস্ত এই সেতু চালু হলে নড়াইল সদর ও কালিয়া উপজেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে। এর ফলে নবগঙ্গা নদীর দুই পাড়ের প্রায় তিন লাখ মানুষের খেয়া পারাপারের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
সেতুটি চালু হলে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে এবং যাতায়াত খরচ বহুলাংশে কমে আসবে। নড়াইল, কালিয়া, গোপালগঞ্জ ও খুলনার মধ্যকার সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা অনেক বেশি সহজ ও সময়বান্ধব হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ।
নির্মাণকাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আবদুল ওয়াদুদ খান লিটন জানান, সেতুর মূল স্ট্রাকচারাল কাজ শেষ এবং ফিনিশিংয়ের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
নড়াইল সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন:
মূল স্ট্রাকচার ও স্টিল স্প্যানের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পে আর কোনো জটিলতা নেই। আশা করছি, আগামী দুই মাসের মধ্যেই সেতুটি উদ্বোধনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হবে এবং যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে।