বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপ্রতিম হত্যার মূল কারণ : রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান
কুমিল্লায় শিশু অপ্রতিম হত্যার বিচার, বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূরীকরণ ও শিশু হত্যা রোধে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠনের তাগিদে বিশেষ সম্পাদকীয়।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশে আবারও এক লাফেই বাড়ানো হয়েছে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম। ডিজেলের লিটারপ্রতি দাম ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা, পেট্রল ১৬০ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) বিপুল ক্ষতির দোহাই দিয়ে সরকারের এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিছক একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ হলেও, এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক মাশুল হবে অত্যন্ত করুণ।
জ্বালানি তেল কেবল একটি নিত্যপণ্য নয়; এটি দেশের কৃষি, পরিবহন, শিল্প উৎপাদন ও বিদ্যুৎ খাতের মূল চালিকাশক্তি। ফলে জ্বালানির দাম বাড়ানো হলে তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নেতিবাচক প্রভাব বহুগুণে ছড়িয়ে পড়ে দেশের প্রতিটি প্রান্তিক মানুষের ওপর।
বাংলাদেশে কৃষি এবং পরিবহন খাত সম্পূর্ণরূপে ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল। এক ধাক্কায় লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ানো সব খাতেই চেইন রিয়্যাকশন তৈরি করবে। সেচ কার্যক্রম, মালবাহী ট্রাক, কভার্ডভ্যান এবং যাত্রীবাহী বাসের জ্বালানি হিসেবে ডিজেল ব্যবহৃত হয়। পরিবহন খরচ বৃদ্ধির ফলে শাকসবজি, চাল, ডালসহ বাজারব্যবস্থার প্রতিটি পণ্যের দাম নতুন করে বৃদ্ধি পাবে। সেচ পাম্প চালানো ও ট্রাক্টর ব্যবহারের খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় একলাফে অনেক বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা বা ফ্রেইট চার্জ বৃদ্ধির আন্তর্জাতিক কারণ যতই যুক্তিযুক্ত হোক না কেন, দেশের সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা যখন এমনিতেই প্রান্তিক পর্যায়ে, তখন এই মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে।
বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্পের চাকা মন্থর। তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে তৈরি পোশাক ও অন্যান্য রপ্তানিমুখী খাতের উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে, যা বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমিয়ে দেবে। জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির সার্বিক প্রভাবে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে, যা তাদের সঞ্চয় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনবে।
আন্তর্জাতিক বাজারের সমন্বয় বা বিপিসির লোকসান কমানোর প্রয়োজনীয়তা থাকলেও, একবারে এত বিপুল অঙ্কের মূল্যবৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। জ্বালানি খাতের অপচয়, সিস্টেম লস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে বারবার জনগণের ওপর বোঝা চাপিয়ে দেওয়া কোনো দীর্ঘমেয়াদী সমাধান নয়।
অনতিবিলম্বে পরিবহন ভাড়া নিয়ন্ত্রণে কঠোর মনিটরিং, কৃষি খাতে বিশেষ প্রণোদনা এবং সার্বিক মূল্যস্ফীতি রোধে সরকারের তাৎক্ষণিক ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
লেখক: রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট কলামিস্ট, রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রচিন্তক।