হরমুজ ও লোহিত সাগরে উত্তাপ, বাড়ছে তেলের দাম
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধার মুখে বিশ্ববাজারে হু-হু করে বাড়ছে তেলের দাম। ব্রেন্ট ক্রুড ৯৬ ডলার পার। বিস্তারিত খবর দৈনিক শব্দমিছিলে।
বাগেরহাট জেলার কাঁচামালের বড় পাইকারি আড়ৎ হিসেবে পরিচিত সিঅ্যান্ডবি, শ্রীঘাট ও পোলেরহাট বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না স্থানীয় কৃষকরা। ফড়িয়া ও বহিরাগত ব্যবসায়ীদের একচটিয়া দাম নির্ধারণের কারণে কঠোর পরিশ্রম করে ফসল ফলিয়েও লোকসানের মুখে পড়ছেন সদর উপজেলার শত শত চাষি।
বাগেরহাট সদর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল এবং মৎস্য ঘেরের পাড়ে লাউ, মিষ্টি কুমড়া, করলা, শশাসহ হরেক রকমের সবজির ব্যাপক ফলন হয়েছে। কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি অনেকে এনজিও ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ফসলের আবাদ করেছেন। উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্যের আশায় কৃষকেরা সিঅ্যান্ডবি, শ্রীঘাট ও পোলেরহাট বাজারে তাঁদের পণ্য নিয়ে আসেন।
এসব বাজার থেকে ঢাকার বড় বড় পাইকারসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা সরাসরি কাঁচামাল ক্রয় করে থাকেন। একসময় এখানে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কেনাবেচা হলেও গত ২–৩ বছর ধরে বহিরাগত ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা একজোটে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। ফলে বাজারে খুচরা ও পাইকারি মূল্যের মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে পাইকারি ও খুচরা বাজারের মূল্যের এক হতাশাজনক চিত্র পাওয়া গেছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৫০–৬০ টাকায় বিক্রি হলেও পাইকাররা কৃষকের কাছ থেকে কিনছেন মাত্র ৮–১০ টাকায়। বাজারে প্রতি পিস ৫০–৬০ টাকায় বিক্রি হলেও কৃষকরা পাচ্ছেন মাত্র ১০–১৫ টাকা। পূর্বে যে করলা প্রতি মণ ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকায় বিক্রি হতো, তা বর্তমানে অর্ধেকে নেমে এসেছে।
স্থানীয় কৃষক আ: জলিল ও আইয়ুব আলী আক্ষেপ করে জানান, ফলন ওঠার শুরুতে ২–১ হাটে কিছুটা ভালো দাম পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে বেপারিরা জোটবদ্ধ হয়ে দাম একবারে ‘পানির দরে’ নামিয়ে আনে। এতে ফসল উৎপাদন ও ক্ষেত থেকে তোলার খরচই উঠছে না।
সিন্ডিকেটের বিষয়ে বাগেরহাট সদর উপজেলা কৃষি অফিসার তন্ময় দত্ত জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত আছেন। তবে বাজার মনিটরিংয়ের মূল দায়িত্বে রয়েছে কৃষি বিপণন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
বাগেরহাট জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আব্দুস সালাম তরফদার বলেন:
বিষয়টি জেলা প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় উত্থাপন করা হয়েছিল। ওই সভায় বাগেরহাট সদর আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাত এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মো: জাকির হোসেন উপস্থিত ছিলেন। কৃষকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা দ্রুত তদারকি করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
অন্যদিকে, বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহনাজ পারভীন বীথি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।