চলমান সংকট ও প্রতিযোগিতার মুখে নাইজেরিয়া ও উগান্ডায় ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে উবার
তীব্র প্রতিযোগিতা ও জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির জেরে নাইজেরিয়া ও উগান্ডা থেকে রাইড-শেয়ারিং ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান উবার।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জন্মদিন হোক কিংবা বিবাহবার্ষিকী—উপহার হিসেবে সব সময় মোজা পাওয়াটাই যাঁর সবচেয়ে বড় পছন্দ। বলছি যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের নর্থ অগাস্টার বাসিন্দা ড্যারিল পার্কারের কথা। পেশায় সাবেক অগ্নিনির্বাপণকর্মী ও প্যারামেডিক পার্কার এখন অবসরজীবন কাটাচ্ছেন। নিজের এই অদ্ভুত ও মজার শখকে সঙ্গী করেই এবার বিশ্ব রেকর্ড গড়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন তিনি। বর্তমানে তাঁর সংগ্রহে রয়েছে দুই হাজারের বেশি জোড়া মোজা।
যেভাবে শুরু এই শখের:
মোজার এই বিশাল সংগ্রহের গল্পটা শুরু হয়েছিল সাধারণ একটি বাবা দিবসের উপহার থেকে। এরপর থেকে জন্মদিন, পদোন্নতি কিংবা বিবাহবার্ষিকীর মতো যেকোনো উপলক্ষে পরিবারের সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীরা উপহার হিসেবে তাঁকে মোজাই দিতে শুরু করেন। এভাবে একসময় ঘরে মোজার একপ্রকার পাহাড় জমে ওঠে। পরে তাঁর স্ত্রী ও নাতি-নাতনিরা পার্কারকে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের জন্য আবেদন করার পরামর্শ দেন। স্বজনদের উৎসাহে অনুপ্রাণিত হয়ে পার্কারও রেকর্ড গড়ার এই অদম্য অভিযানে নেমে পড়েন।
ভাঙতে চলেছেন বর্তমান রেকর্ড:
বর্তমানে মোজার সর্ববৃহৎ সংগ্রহের গিনেস রেকর্ডটির একক মালিক যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার অবসরপ্রাপ্ত সংবাদ পাঠক জিম ডনোভান। গত ২০২৫ সালে তাঁর সংগ্রহে থাকা অনন্য নকশার ১ হাজার ৫৩১ জোড়া মোজা গণনা করে গিনেস কর্তৃপক্ষ তাঁকে এই খেতাব দিয়েছিল।
তবে ড্যারিল পার্কার ইতোমধ্যে দুই হাজারের বেশি জোড়া মোজা সংগ্রহ করে ফেলায় জিম ডনোভানের সেই রেকর্ড ভাঙা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। বর্তমানে আনুষ্ঠানিক গণনা এবং গিনেস কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া বাকি রয়েছে।
রেকর্ড গড়ার পর মহৎ উদ্যোগ:
আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন ও গিনেস কর্তৃপক্ষের যাচাইকরণ প্রক্রিয়া শেষ করতে পার্কার এ বছরের শেষ পর্যন্ত মোজা সংগ্রহ অব্যাহত রাখবেন। তবে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার চেয়েও তাঁর একটি বড় মানবিক উদ্দেশ্য রয়েছে। রেকর্ড নিশ্চিত হওয়ার পর সংগৃহীত এই বিপুল পরিমাণ মোজা তিনি কোনো স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রে দান করে দেবেন।
সমাজসেবাকে নিজের রক্তে মিশে থাকা তাগিদ হিসেবে উল্লেখ করে এই সাবেক অগ্নিনির্বাপণকর্মী বলেন, নতুন সংগৃহীত প্রতিটি মোজাই দিন শেষে পৌঁছে দেওয়া হবে তীব্র শীতে কষ্ট পাওয়া আশ্রয়হীন অসহায় মানুষের হাতে। পার্কারের মতে, কেবল গিনেস রেকর্ড গড়াই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য নয়; বরং এই উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি সমাজের মানুষের মাঝে আনন্দ, উষ্ণতা ও খুশির বার্তা ছড়িয়ে দিতে চান।