চলমান সংকট ও প্রতিযোগিতার মুখে নাইজেরিয়া ও উগান্ডায় ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে উবার
তীব্র প্রতিযোগিতা ও জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির জেরে নাইজেরিয়া ও উগান্ডা থেকে রাইড-শেয়ারিং ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান উবার।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে নিজের নামে রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গতকাল বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অদ্ভুত প্রস্তাব তোলেন। ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন যে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বর্তমানে পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘এখন যেহেতু হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে, তবে কি এটির নাম বদলে ট্রাম্প প্রণালি রাখা উচিত?’
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সমালোচকেরা বলছেন, ট্রাম্প মূলত এটি বারবার জাহির করার চেষ্টা করছেন যে চলমান ইরান যুদ্ধ পুরোপুরি তাঁর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ধরনের প্রচারণার অংশ হিসেবেই তিনি হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে বাস্তবে ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযানকে একটি কৌশলগত ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ক্রমেই একটি দীর্ঘস্থায়ী ও মারাত্মক সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সিরিকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন বিমান হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত চারজন নিহত এবং ৬০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। এই হামলার কঠোর জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্র প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রয়েছে এবং প্রতিদিন এই জলপথ দিয়ে লাখ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে দাবি করলেও বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমেনি। উল্টো ইরানের দাবি, প্রণালিটি এখনও তাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে এবং এটি বন্ধ রয়েছে। এদিকে গতকাল সৌদি আরব অভিযোগ করেছে যে, হরমুজ প্রণালিতে তাদের একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান, যার ফলে দুই নাবিক নিহত হয়েছেন। ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনীর পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসও (ইউকেএমটিও) প্রায় প্রতিদিনই এই জলপথে বিভিন্ন জাহাজে হামলার খবর নিশ্চিত করছে।
যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, গতকাল দেশটিতে প্রতি গ্যালন (৩ দশমিক ৮ লিটার) পেট্রলের দাম বেড়ে রেকর্ড ৪ দশমিক ১২ ডলারে পৌঁছেছে। অথচ এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে প্রতি গ্যালন পেট্রলের দাম ছিল ৩ ডলারের নিচে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এককভাবে নাম পরিবর্তনের বা একচ্ছত্র আধিপত্যের দাবি এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত মাসেও ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের এলাকা’ বলে দাবি করেছিলেন। এমনকি গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার চলমান বাণিজ্য বিরোধের জেরে কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে অবস্থিত প্রখ্যাত ‘লেক অন্টারিও’ হ্রদের নামও একতরফাভাবে পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ নামকরণের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে এই সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। সেই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে যুদ্ধ মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু সেই যুদ্ধ ইতোমধ্যে সাত মাসে গড়িয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলেও ট্রাম্প এখনও জনসমক্ষে বারবার নিজেদের বিজয়ী বলে দাবি করে আসছেন।