হরমুজ প্রণালি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মার্কিন দাবি উড়িয়ে দিল ইরান, বসল অতিরিক্ত মাইন
হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করে দক্ষিণ অংশে অতিরিক্ত নৌ মাইন বসানোর কথা জানিয়েছে ইরান। জানুন বিস্তারিত।
আন্তর্জাতিক: অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয়, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি, চালকদের দীর্ঘদিনের অসন্তোষ এবং তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে আফ্রিকার দুই গুরুত্বপূর্ণ দেশ নাইজেরিয়া ও উগান্ডায় কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে জনপ্রিয় বহুজাতিক রাইড-শেয়ারিং কোম্পানি উবার।
ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। উবারের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নাইজেরিয়া ও উগান্ডায় কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত কেবল এই দুই বাজারের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। আফ্রিকার অন্যান্য দেশে কোম্পানিটির চলমান কার্যক্রমে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না এবং সাব-সাহারান আফ্রিকার ভবিষ্যৎ বাজার নিয়ে তারা এখনো আশাবাদী।
ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার নেপথ্য কারণ:
নাইজেরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানির মূল্য আকাশচুম্বী হলেও অ্যাপভিত্তিক যাত্রীভাড়া তুলনামূলক কম রাখা এবং উবারের মাত্রাতিরিক্ত কমিশনের কারণে চালকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছিল। বিগত বছরগুলোতে এসব দাবি নিয়ে চালকেরা দফায় দফায় বিক্ষোভ ও কর্মবিরতিও পালন করেছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালে প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশটিতে জ্বালানি ভর্তুকি পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়। এর ফলে লাগাতার জ্বালানির দাম ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যায়, যা চালকদের জন্য গাড়ি চালানো অত্যন্ত দুর্বিষহ করে তোলে। এছাড়া নাইজেরিয়ার বাণিজ্যিক রাজধানী লাগোসে তীব্র যানজটের কারণে ২০১৯ সালে উবার নৌযানভিত্তিক সেবা চালু করলেও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেনি।
গত এক দশকে নাইজেরিয়ার রাইড-হেইলিং বাজারে বোল্ট, ইনড্রাইভের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রাসী উপস্থিতি এবং স্থানীয় নানা চ্যালেঞ্জ উবারের জন্য ব্যবসা পরিচালনা কঠিন করে তুলেছিল। এর আগে গত এক বছরে আইভরি কোস্ট ও তানজানিয়া থেকেও নিজেদের ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।উবার প্রধান নির্বাহী দারা খোসরুশাহীর বিশ্বজুড়ে কর্মীসংখ্যা ১০ শতাংশ কমানোর ঘোষণার ধারাবাহিকতাতেই এই সিদ্ধান্ত এল বলে ধারণা করা হচ্ছে। নাইজেরিয়া ও উগান্ডা ছাড়ার পর বর্তমানে আফ্রিকায় মিশর, ঘানা, কেনিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় তাদের কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু রাখবে কোম্পানিটি।
এদিকে উগান্ডার প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘ডেইলি মনিটর’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উবারের আকস্মিক প্রস্থান রাজধানী কাম্পালার নগর পরিবহন ব্যবস্থায় কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলবে। তবে ফারাস, বোল্ট ও সেফবোদার মতো বিকল্প স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক রাইড-হেইলিং প্ল্যাটফর্মগুলো দ্রুতই উবারের শূন্যস্থান পূরণে এগিয়ে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কার্যক্রম বন্ধের এই প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্মী ও চালকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে উবার। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নাইজেরিয়া ও উগান্ডায় তাদের নির্ধারিত সহায়তা কেন্দ্রসমূহ আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চালু থাকবে। এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট চালক ও কর্মীদের সব ধরনের বকেয়া পাওনা এবং অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করতে সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া হবে।