আন্তর্জাতিক মানে কৃষিপণ্য রপ্তানিতে গামা ইরেডিয়েশন প্রযুক্তির সূচনা: কৃষিমন্ত্রী
গাজীপুরে বিনা-র গামা ইরেডিয়েশন সেন্টারের উদ্বোধন করলেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। পচনশীল কৃষিপণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা।
নেপাল ও চীন-নিয়ন্ত্রিত তিব্বত সীমান্তে হিমবাহধসে সৃষ্ট ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও কাদা-পাথরের তোড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে পুরো অঞ্চল। দুর্যোগের এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পার হলেও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে এখনও কয়েক ডজন কর্মী জীবিত আছেন বলে আশা করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে অন্তত ৬৩৯ জন কর্মী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই দুর্যোগে ভবন, পাথর ও কাদা মিলিয়ে অন্তত ২২ লাখ টন ধ্বংসস্তূপের সৃষ্টি হয়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, পাহাড়ি ঢলটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০০ মাইল (১৬০ কিমি) বেগে নদী উপত্যকা ধরে ৬০ মাইলেরও বেশি পথ পাড়ি দেয়। এতে সম্পূর্ণ গ্রাম, সেতু এবং বহু জলবিদ্যুৎ বাঁধ মুহূর্তের মধ্যে ভেসে যায়।
দুর্যোগে এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২৫২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪,২০০ জনেরও বেশি মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে তিব্বত সীমান্ত থেকে ৫ কিমি দূরে অবস্থিত রাসুয়া জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে হেলিকপ্টার ছাড়া যাতায়াত প্রায় অসম্ভব। পাহাড়ি ঢলের কাদা ও পাথরে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রবেশপথগুলো বন্ধ হয়ে গেলেও ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের ভেতরে বাতাসের বুদ্বুদ বা ‘এয়ার পকেট’ সৃষ্টি হওয়ায় শ্রমিকদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা দেখছেন উদ্ধারকর্মীরা।
দুর্যোগের ৯ দিন পর শুক্রবার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে দুই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তবে তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। রাসুয়াগাড়ি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ কক্ষে ৪৬ জন মানুষ এখনো জীবিত আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে আলো, খাবার ও পানি থাকায় তারা বেঁচে আছেন বলে আত্মবিশ্বাসী নেপাল বিদ্যুৎ বিভাগ। আপার ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্পেও ৩০ থেকে ৪০ জন জীবিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘন কাদার কারণে ৬ দিন চেষ্টার পর সেখানে সুড়ঙ্গের সন্ধান মেলে।
নেপাল বিদ্যুৎ বিভাগের পর্ষদ সদস্য অংশু কিরণ শাহি জানান, চারটি প্রধান প্রকল্পে বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি উদ্ধার অভিযানে ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরা আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে অংশ নিচ্ছেন।
সুড়ঙ্গে আটকে থাকা নিখোঁজদের পরিবারগুলোর মধ্যে উৎকণ্ঠা চরমে পৌঁছেছে। সুড়ঙ্গে আটকে পড়া ঝাপ্পাদ ভূজেলের বোন দুর্গা গুরুং ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “সেনাবাহিনী বা বিদ্যুৎ বিভাগ আমাদের সঠিক তথ্য দিচ্ছে না। অন্ধকার সুড়ঙ্গে না খেয়ে আমাদের স্বজনেরা আর কতক্ষণ বেঁচে থাকবে? এখন অলৌকিক ঘটনা ছাড়া আর কোনো আশা নেই।”
প্রাথমিক জরিপে দেখা গেছে, বন্যায় নেপালের ১১টি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ১০ শতাংশ। ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ২০ হাজারের বেশি বাড়ি পুনর্নির্মাণ করতে হবে, যার জন্য প্রাথমিক প্রাক্কলন অনুযায়ী ৫০০ কোটি (৫ বিলিয়ন) ডলারেরও বেশি ব্যয় হবে।