মানুষের মতো হিউম্যানয়েড রোবট তৈরির ঘোষণা দিলেন ওপেনএআই সিইও স্যাম অল্টম্যান
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে এবার মানুষের মতো অবয়বের ‘হিউম্যানয়েড রোবট’ তৈরি করছে ওপেনএআই। বিস্তারিত জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান।
ভ্রমণ ডেস্ক:
‘জীবন সংক্ষিপ্ত এবং পৃথিবী প্রশস্ত’—কোভিড মহামারি ও প্রিয়জনদের হারানোর সেই কঠিন দিনগুলোর পর এই উপলব্ধি থেকেই বিশ্বভ্রমণের তাগিদ অনুভব করেছিলেন ভ্রমণপিপাসু দম্পতি। অবশেষে নিজেদের বাকেট তালিকার শীর্ষে থাকা স্বপ্নের দেশ সুইজারল্যান্ডে ৮ দিনের এক রোমাঞ্চকর পারিবারিক সফর সম্পন্ন করেছেন তাঁরা। স্ত্রী জান্নাত রহমান এবং দুই ছেলে ১২ বছরের জিবরান রহমান ও ৮ বছরের জাহরান রহমানকে সঙ্গে নিয়ে এটি ছিল তাঁদের জীবনের প্রথম আন্তর্জাতিক পারিবারিক ভ্রমণ।
সুইস এই অ্যাডভেঞ্চার শুরু হয়েছিল জেনেভা থেকে। আইকনিক জেট ডি’উ (ঝরনা), ফ্লাওয়ার ক্লক, জেনেভা হ্রদ এবং জাতিসংঘের সদর দপ্তর পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁদের পথচলা। দ্বিতীয় দিনে তাঁরা চলে যান জেনেভা হ্রদের তীরবর্তী মনোমুগ্ধকর শহর মন্ট্রেক্সে। সেখানে একটি নৈসর্গিক নৌভ্রমণের পাশাপাশি ত্রয়োদশ শতাব্দীর ঐতিহাসিক দুর্গ ‘চিলিয়ন ক্যাসেল’ এবং ব্রিটিশ রক ব্যান্ড কুইনের ভোকাল ফ্রেডি মার্কারির বিখ্যাত মূর্তি ঘুরে দেখেন তাঁরা।
তৃতীয় দিনে গোল্ডেন পাস প্যানোরামিক ট্রেনে চড়ে আল্পস পর্বতমালা, মনোরম গ্রাম ও নির্মল হ্রদের দৃশ্য দেখতে দেখতে তাঁরা পৌঁছান ইন্টারলাকেনে। সেখানে বাবা ও বড় ছেলে জিবরান অংশ নেন এক রোমাঞ্চকর প্যারাগ্লাইডিং রাইডে, যা তাঁদের জীবনের অন্যতম সেরা স্মৃতি হয়ে থাকবে। পাশাপাশি আইসেল্টওয়াল্ড, গ্রিন্ডেলওয়াল্ড, লাউটারব্রুনেন ও মুরেন থেকে গিমেলওয়াল্ডের হাইকিং এবং ব্রিয়েঞ্জ হ্রদের নৌকাভ্রমণ পুরো পরিবারকে মুগ্ধ করে।
ইন্টারলাকেনে তিন রাত কাটিয়ে তাঁরা লুসার্নে পৌঁছান। সেখানকার ঐতিহাসিক চ্যাপেল সেতু, পুরোনো শহর এবং লুসার্ন হ্রদে ক্রুজ ভ্রমণের পর তাঁরা গথার্ড প্যানোরামা এক্সপ্রেসে তিন ঘণ্টার এক জাদুকরি ট্রেন ও নৌকাযাত্রায় লুগানো ভ্রমণ করেন। মেঘলা আবহাওয়ায় সুইস আল্পস এবং পর্কো সিয়ানি পার্কের সৌন্দর্য ছিল একেবারেই রূপকথার মতো।
সফরের শেষ দিনটি ছিল জ্যুরিখে। সেখানে বিখ্যাত লিন্ডট চকলেট মিউজিয়ামে গলিত চকলেটের সুবাস আর নানা পদের চকলেট টেস্ট করার দারুণ এক অভিজ্ঞতা হয় পুরো পরিবারের। এরপর শ্যাফহাউসেনে অবস্থিত ইউরোপের অন্যতম বৃহত্তম জলপ্রপাত ‘রাইন জলপ্রপাত’-এর কাছে গিয়ে নৌকায় চড়ে প্রকৃতির অপার শক্তি ও শীতল কুয়াশা উপভোগ করেন তাঁরা। সুইজারল্যান্ডের চমৎকার ও সুশৃঙ্খল গণপরিবহন ব্যবস্থা পুরো ভ্রমণটিকে করে তুলেছে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময়।
অত্যাশ্চর্য ল্যান্ডস্কেপ, সমৃদ্ধ ইতিহাস আর উষ্ণ আতিথেয়তার এই সুইস সফর প্রতিটি ভ্রমণপ্রেমীর জন্যই হতে পারে এক অনন্য অনুপ্রেরণা।