জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দায়িত্ব নিলেন ড. খলিলুর রহমান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সূচনা বক্তব্য দিলেন ড. খলিলুর রহমান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সরকারের প্রতি প্রকাশ করলেন বিশেষ কৃতজ্ঞতা।
ঢাকা: অবসরের পর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সাধারণ পাসপোর্টের জন্য পুনরায় গোয়েন্দা ভেরিফিকেশনের মুখে ফেলা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর পাসপোর্টসংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে দায়ের করা এক রিট মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও রায় দেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে এই রায় প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন।
রায়ে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীসহ সুপ্রিম কোর্টের সব সাবেক বিচারক ও তাঁদের স্ত্রীদের কোনো ধরনের অতিরিক্ত গোয়েন্দা ভেরিফিকেশন ছাড়াই দ্রুত সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু করে তা হস্তান্তরের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট করে বলেছেন, বিচারক পদে দীর্ঘ দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্র তাদের পদমর্যাদা, সততা ও পরিচয় যাচাই করেই কূটনৈতিক পাসপোর্ট প্রদান করে থাকে। সুতরাং, অবসরের পর সাধারণ পাসপোর্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের পুনরায় গোয়েন্দা সংস্থার ভেরিফিকেশনের মুখোমুখি করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন।
আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ও তাঁদের স্ত্রীরা কূটনৈতিক পাসপোর্টের অধিকারী। বিচারকের পদ থেকে অবসর বা পদত্যাগের পর তাদের ওই কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হয়। পূর্বে এই সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গোয়েন্দা প্রতিবেদনের প্রয়োজন হতো না।
কিন্তু পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক স্মারকে কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণকারী ব্যক্তিদের সাধারণ পাসপোর্ট পাওয়ার আগে দুটি গোয়েন্দা সংস্থার সন্তোষজনক প্রতিবেদনের শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। এই বিধিমালার কারণে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী নিজের কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করে ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন করলেও গোয়েন্দা ছাড়পত্রের অজুহাতে তাকে পাসপোর্ট দেওয়া হয়নি, যার ফলে তিনি বিদেশ ভ্রমণে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হন।
পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের অনুমতিক্রমে হাইকোর্ট বিভাগের প্রোটোকল অফিসার মো. রোমান ভূঁইয়া প্রশাসনিক এই বাধাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। আদালত রুল জারি করার পর দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ এই যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করলেন।