কৃষি ও অর্থনীতি

বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও বাণিজ্যনীতি নিয়ে নতুন রূপরেখা দিলেন: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্য ও অর্থনীতি: দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলোর আধুনিকায়নে সরকারের নতুন রূপরেখা ও কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা/মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নানা প্রেক্ষাপট নিয়ে দেওয়া বিশেষ এক সাক্ষাৎকার ও আলাপে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তসমূহ তুলে ধরেন তিনি।

বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ শিল্প খাতের বিদ্যমান সংকট কাটাতে সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাতের সমন্বিত উদ্যোগের কথা জানান খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

বিশেষ সাক্ষাৎকারে বাণিজ্য ও শিল্প খাতের বহুমুখী সংস্কার এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়:

আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে প্রশাসনিক জটিলতা দূরীকরণ এবং দেশে কার্যকর অবকাঠামোগত ও পরিবেশগত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

শিল্প কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কেবল তৈরি পোশাক (RMG) খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে চামড়া, পাট, ওষুধ ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানিতে জোর দেওয়ার কৌশল ব্যক্ত করেন।

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে চূড়ান্ত উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে পাওয়া শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় রাখতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (PTA) ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সম্পাদনের গতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

বন্ধ ও লোকসানি রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলোকে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) কিংবা আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় এনে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।

নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি  শিল্প খাতে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রাধান্য দেওয়া।

রপ্তানি বহুমুখীকরণ  তৈরি পোশাকের বাইরে চামড়া, পাট ও নতুন পণ্যের বাজার সৃষ্টি।

বাণিজ্য চুক্তি  এলডিসি উত্তরণ মোকাবিলায় কৌশলগত FTA ও PTA সই।

শিল্প সংস্কার  লোকসানি রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা আধুনিকায়ন ও বন্ধ কারখানা চালু।

বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোর দায়িত্বে থাকা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। শিল্পোদ্যোক্তাদের সকল যুক্তিযুক্ত সুবিধা প্রদান নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।

বাণিজ্যনীতি ও রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা পরিচালনা সংক্রান্ত তাঁর বিস্তৃত বক্তব্য ও বিশ্লেষণধর্মী মতামত সম্পর্কিত বিস্তারিত অডিও-ভিডিও প্রতিবেদন ইতোমধ্যে সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচারিত হয়েছে।

Related News

এক কিউআর’ চালুর পর ডিজিটাল লেনদেনে বিপ্লব: দৈনিক লেনদেন ছাড়াল ১২০ কোটি টাকা

এক দেশ, এক কিউআর’ চালুর পর দেশে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে।

ডলারের দরপতনে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ফের ঊর্ধ্বমুখী, দেশের বাজারে কমল দাম

ডলারের দরপতনের কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম সামান্য বাড়লেও দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি ১ হাজার ১০৮ টাকা কমানো হয়েছে।

ম্যানগ্রোভভিত্তিক চিংড়ি চাষে বাড়বে উৎপাদন ও রপ্তানি আয়: গোলটেবিল বৈঠক

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চিংড়ি উৎপাদন কমলেও ম্যানগ্রোভভিত্তিক সমন্বিত চাষে কমবে মৃত্যুহার। কারওয়ান বাজারে অনুষ্ঠিত গোলটেবিলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ।

দেশের বাজারে আবারও কমল স্বর্ণের দাম

তেজাবী স্বর্ণের দাম হ্রাসের ফলে দেশের বাজারে আবারও কমানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা।

‘ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি’ তত্ত্ব ও বাস্তবতার খতিয়ান

বর্তমান সরকারের অর্থ উপদেষ্টার ‘ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি’ দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে অর্থনীতিবিদ ড. বিরূপাক্ষ পালের বিশদ বিশ্লেষণ ও মতামত।

রিজার্ভের স্বস্তির আড়ালে বিনিয়োগ ও বৈদেশিক বাণিজ্যের চ্যালেঞ্জ

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়লেও দেশের বিনিয়োগ স্থবিরতা, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এবং মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা অর্থনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি: চার মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা অর্জন

গত দুই বছরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৩৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে চার মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো রিজার্ভ রয়েছে বাংলাদেশের।

বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী, মিতালী ও বন্ধন এক্সপ্রেস চালুর উদ্যোগ, ঢাকায় বসছে দুই দিনের বৈঠক

ঢাকা-কলকাতা ও নিউ জলপাইগুড়ি রুটের বন্ধ থাকা মৈত্রী, মিতালী ও বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেন চালুর বিষয়ে আগামীকাল ঢাকায় শুরু হচ্ছে দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের বৈঠক।

Search