সর্বজনীন পেনশনে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব, ৫৫ বছরেই পেনশন
সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিকে আরও আকর্ষণীয় করতে ৬০ বছরের পরিবর্তে ৫৫ বছর বয়স থেকে পেনশন এবং জরুরি প্রয়োজনে টাকা তোলার সুযোগসহ নতুন প্রস্তাব দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অর্থনীতি: দীর্ঘদিন আটকে থাকা আমানত ফেরত পাওয়ার সুযোগ দেওয়ার পরও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তোলার ক্ষেত্রে কোনো বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়নি। বরং ১ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমানত ফেরতের আবেদন করা গ্রাহকদের প্রায় ৭১ শতাংশই এখনো তাঁদের টাকা তোলেননি। উল্টো এই সময়ে ব্যাংকটিতে নতুন করে প্রায় ৮৯৪ কোটি টাকা আমানত জমা হয়েছে।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ১ থেকে সেপ্টেম্বর ১০ তারিখের মধ্যে এক লাখ ২৪ হাজার ৮৭৭ জন গ্রাহক ৫ হাজার ৫১১ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন করেন। এর মধ্যে মাত্র ৩৫ হাজার ৯০৭ জন গ্রাহক ১ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। ফলে আবেদনকারী গ্রাহকদের একটি বড় অংশের আমানত এখনো সুরক্ষিতভাবে ব্যাংকেই রয়ে গেছে।
শুরুতে টাকা তোলার আগ্রহ কিছুটা বেশি থাকলেও পরবর্তীতে গ্রাহকদের সেই চাপ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসে। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবেদুর রহমান সিকদার জানান, আবেদন করেও গ্রাহকদের বড় একটি অংশ টাকা তুলছেন না এবং শাখা থেকে ফোন করা হলে অনেকে পরে টাকা না তোলার কথা জানাচ্ছেন। তাঁর মতে, এটি ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা ফিরে আসার বড় একটি লক্ষণ। বর্তমানে ব্যাংকটির অর্থের প্রবাহ ও লেনদেন প্রায় স্বাভাবিক হয়ে এসেছে এবং ক্যাশ লেনদেনের পাশাপাশি আরটিজিএস, বিএফটিএন ও ক্লিয়ারিং কার্যক্রমও পুরোদমে চালু রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আমানতকারীদের আস্থা ফেরানো। আপাতত আমানত উত্তোলনের চাপ কম থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া ব্যবস্থাপনার ওপরও চাপ কমেছে।
এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে গঠিত এই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে আমানত ফেরত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তারল্য সহায়তা দিয়েছে। তবে খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, আমানত উত্তোলনের চাপ কম থাকাকে এখনই সম্পূর্ণ ও স্থায়ী আস্থা ফেরার প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নতুন ব্যাংকটির সামনে প্রায় ১৬ হাজার জনবল, ৭৫৯টি শাখা ও প্রায় ৭০০ উপশাখার পুনর্বিন্যাস, পরিচালন ব্যয় কমানো এবং ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকার বিশাল খেলাপি ঋণ আদায়সহ সুশাসন নিশ্চিত করার মতো বড় চ্যালেঞ্জগুলো এখনো বহাল রয়েছে।