রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শহীদ মুগ্ধর পরিবারের সৌজন্য সাক্ষাৎ
বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর পরিবারের সদস্যরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
জাতীয়: সংসদে গঠিত বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য। জোটটির দাবি, গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কার নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে সংবিধান সংস্কার পরিষদকে কার্যকর করতে হবে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটের এ অবস্থান তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজন করা হয় সংসদে গঠিত সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির কার্যক্রম নিয়ে ১১-দলীয় ঐক্যের অবস্থান জানাতে। একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদে সই করা রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করছে বিশেষ কমিটি। এতে ২৬টি দল ও জোটকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ কয়েকটি দল অংশ নিচ্ছে না।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটে প্রকাশিত জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখানোই বর্তমান সাংবিধানিক মতপার্থক্য নিরসনের পথ বলে ১১-দলীয় ঐক্য মনে করে।
তার দাবি, গণভোটে অনুমোদিত প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়নের উদ্যোগ জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
জোটটির বক্তব্য অনুযায়ী, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ শুধু সংস্কার প্রস্তাবেই মত দেয়নি; তা বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠানকেও অনুমোদন দিয়েছে। তাই ওই প্রক্রিয়ার বাইরে বিকল্প কোনো ব্যবস্থাকে একই ম্যান্ডেটের সমতুল্য হিসেবে দেখা যায় না বলে দাবি করেন পরওয়ার।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত আদেশ অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংসদ সদস্য হিসেবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি শপথ নেওয়ার কথা।
তার দাবি, বিরোধী দলের এমপিরা দুটি শপথ নিলেও বিএনপির এমপিরা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এ বিষয়টিকে বর্তমান সাংবিধানিক বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
পরওয়ার বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে পাওয়া ক্ষমতা এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে জনগণের গণভোটে অর্পিত ক্ষমতা এক নয়। তার মতে, দুটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতার উৎস, আইনগত পরিচয় ও দায়িত্বের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ সংসদকে সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা দিলেও সেই ক্ষমতা সীমাহীন নয় বলে দাবি করেন পরওয়ার। এ প্রসঙ্গে তিনি সংবিধানের বিভিন্ন সংশোধনী বাতিলের বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের উদাহরণ তুলে ধরেন।
তার বক্তব্য, সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেই সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের এখতিয়ার তৈরি হয় না। জনগণের সাংবিধানিক ক্ষমতা ও গণভোটে দেওয়া ম্যান্ডেটকেও বিবেচনায় নিতে হবে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—
গণভোটের রায় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা;
জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়ন করা;
নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিষদ কার্যকর করা।
এ ছাড়া জনগণের সম্মতি ও গণভোটের ম্যান্ডেটকে পাশ কাটিয়ে একতরফাভাবে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো-সংশ্লিষ্ট পরিবর্তনের উদ্যোগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে জোটটি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক সংস্কার জনগণের প্রত্যাশা, গণভোটের রায় এবং রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়া উচিত।
সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি দল ও জোটের সঙ্গে মতবিনিময়ের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি বিচারক, আইনজীবী, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, বুদ্ধিজীবী ও সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গেও মতবিনিময়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য শুরু থেকেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে গণভোটে অনুমোদিত সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে। এর আগে জোটটি সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ব্যবহার করে জনগণের ইচ্ছার বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছিল।