বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৩১ বিলিয়ন ডলার
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৩১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ৩১.৪৫ বিলিয়ন ডলার। বাড়ছে রেমিট্যান্সও।
অর্থনীতি: আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রতি লিটার ডিজেলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রায় ৯০ টাকা লোকসান করছিল বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম। তাঁর ভাষ্য, পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান বিপিসি চেয়ারম্যান।
এর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দেশের চার ধরনের জ্বালানির দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন দাম সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে কেরোসিনের দাম ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা, পেট্রল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থ বিবেচনায় দেশে তা পুরোপুরি সমন্বয় করা হয়নি।
সরকারি হিসাবে, মার্চ থেকে আগস্ট—এই ছয় মাসে বিপিসির প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। রয়টার্সও সরকারি হিসাবের বরাতে জানিয়েছে, এই সময়ে বিপিসির লোকসান হয়েছে প্রায় ২২৮.৭৬ বিলিয়ন টাকা।
দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাম বাড়ানোর আগ পর্যন্ত প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে বিপিসির লোকসান ছিল প্রায় ৮৯ টাকা। এতে প্রতিদিন প্রায় ১০৯ কোটি টাকা এবং বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসানের হিসাব দাঁড়ায়।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বাড়লেও এতদিন দেশের বাজারে পুরোপুরি তার প্রভাব দেওয়া হয়নি। এতে বিপিসির লোকসান বাড়তে থাকে।
নতুন দাম নির্ধারণের মাধ্যমে বিপিসির আর্থিক ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানো এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় দামের বড় ব্যবধানের কারণে জ্বালানি পাচার ঠেকানোর লক্ষ্যও রয়েছে বলে সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে।
তবে ডিজেলের দাম বাড়ার ফলে পরিবহন, কৃষিতে সেচ, শিল্প উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় বাড়তে পারে। বাংলাদেশে মোট পেট্রোলিয়াম পণ্যের ব্যবহারের বড় অংশই ডিজেলনির্ভর হওয়ায় এর প্রভাব পণ্য ও সেবা মূল্যের ওপরও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।