পটুয়াখালীতে বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত ২০
পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের ধলু গাজীর মোড়ে বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স ছিনিয়ে নেওয়া, পাঁচ হাজার টাকা পাওনা নিয়ে ব্যক্তিগত আক্রোশ এবং টিকটক ভিডিও তৈরির প্রলোভন—এই তিনের জটিল জালে পড়ে প্রাণ হারিয়েছে কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ১৩ বছর বয়সি শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার গহিন জঙ্গলে তাকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
শুরুতে একে কেবল সাধারণ ছিনতাই বা আইফোনকেন্দ্রিক অপরাধ মনে করা হলেও, তদন্ত যত এগিয়েছে ততই উন্মোচিত হয়েছে কিশোর ও যুবকদের একটি গ্যাং এবং অপ্রতিমের সঙ্গে তাদের ‘অসম বন্ধুত্ব’-এর বিপজ্জনক রূপ। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য মতে, গত শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে টিকটক ভিডিও তৈরি ও ছবি তোলার প্রলোভন দেখিয়ে অপ্রতিমকে বাসা থেকে বের করে আনেন মূল অভিযুক্ত তুহিন।
মেসেজের ফাঁদ ঘটনার দিন তুহিন অপ্রতিমের মুঠোফোনে বারবার বার্তা পাঠিয়ে দামি আইফোনটি নিয়ে বের হতে বলেন।সিসিটিভি ফুটেজ: বেলা ৩টা ১০ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় তাদের স্বাভাবিকভাবে হেঁটে যেতে দেখা যায়। পরবর্তী কয়েকটি ফুটেজে চারজনকে একসঙ্গে পাহাড়ের নির্জন এলাকার দিকে যেতে সনাক্ত করে পুলিশ।
নির্জন জঙ্গল মূল সড়ক থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভেতরে লালমাই পাহাড়ের গভীর জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অপ্রতিম বাধা দিলে তুহিন ও তার সঙ্গীরা বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় মারাত্মক আঘাত করে তাকে হত্যা করে।
আইফোন ছাড়াও এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পাঁচ হাজার টাকার একটি আর্থিক বিরোধের তথ্য পেয়েছে তদন্তকারী দল।
অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের প্রতিষ্ঠান ‘ইয়েসটেক’-এ কাজ করত গ্রেপ্তার হওয়া এক কিশোর। অপ্রতিম ওই কিশোরকে ৫ হাজার টাকা ধার দিয়েছিল এবং সম্প্রতি তা ফেরত চাইছিল। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অপ্রতিম বেঁচে না থাকলে আর টাকা ফেরত দিতে হবে না—এমন ভাবনা থেকেই ওই কিশোরও এই হত্যাকাণ্ডে সক্রিয় ইন্ধন যোগায়।
শনিবার সকালে তুহিনকে প্রথমে পুলিশ হেফাজতে নেয়। শুরুতে তিনি অপরাধ স্বীকার না করলেও তুহিনের মুঠোফোনে বারবার কল দিচ্ছিল অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত ওই কিশোর। বিষয়টি নজরে আসার পর পুলিশ তাকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল রহস্য ও অন্যান্য সহযোগীদের পরিচয় বেরিয়ে আসে।
হত্যাকাণ্ডের পর আইফোনটি তুহিন তাঁর বাড়ি সানন্দায় তোশকের নিচে লুকিয়ে রেখেছিলেন, যা পরে তাঁর মায়ের কাছ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে ও গন্ধমতী ঈদগাহে দুই দফা জানাজা শেষে অপ্রতিমকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় আবেগাপ্লুত বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন,
“আর কাউকে যেন আমার মতো সন্তান হারাতে না হয়।”
অপ্রতিমের এই নির্মম হত্যাকাণ্ড দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা, সন্তানদের অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক মেলামেশা এবং বয়সে বড়দের সঙ্গে বিপজ্জনক ‘অসম বন্ধুত্ব’ নিয়ে অভিভাবক সমাজে মারাত্মক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।