আন্তর্জাতিক: ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কারের দ্বিতীয় দিনে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বেলজিয়ান-আমেরিকান পদার্থবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হ্যালজেন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস তাঁর নাম ঘোষণা করে।
আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং জ্যোতির্পদার্থগত উৎস থেকে উচ্চশক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কারে ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
নিউট্রিনো এমন এক ধরনের অতিক্ষুদ্র কণা, যা সাধারণ পদার্থের সঙ্গে খুব সামান্যই মিথস্ক্রিয়া করে। ফলে বিপুল দূরত্ব অতিক্রম করেও এসব কণা প্রায় বাধাহীনভাবে পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে। এ কারণেই বিজ্ঞানীরা নিউট্রিনোকে মহাবিশ্বের দূরবর্তী ও চরম শক্তিশালী ঘটনাপ্রবাহের গুরুত্বপূর্ণ বার্তাবাহক হিসেবে দেখেন।
দক্ষিণ মেরুর বরফের প্রায় ১ কিলোমিটার গভীরে স্থাপিত আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি এসব উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করতে কাজ করে। হ্যালজেন এই পর্যবেক্ষণাগার প্রতিষ্ঠা ও এর বৈজ্ঞানিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
আইসকিউবের মাধ্যমে ২০১৩ সালে প্রথম উচ্চশক্তির জ্যোতির্পদার্থগত নিউট্রিনোর প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে এই পর্যবেক্ষণাগার মহাবিশ্বের বিভিন্ন শক্তিশালী উৎস থেকে আসা নিউট্রিনো শনাক্ত ও তাদের উৎস অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ফ্রান্সিস হ্যালজেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন–ম্যাডিসনের অধ্যাপক এবং আইসকিউব সহযোগিতার প্রধান গবেষক বা প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর। তাঁর গবেষণার অন্যতম কেন্দ্র উচ্চশক্তির নিউট্রিনো এবং মহাজাগতিক রশ্মি।
আইসকিউবের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা ব্লাজার, সক্রিয় গ্যালাক্সি ও অন্যান্য মহাজাগতিক শক্তিশালী উৎস থেকে আসা নিউট্রিনো নিয়ে গবেষণার নতুন সুযোগ পেয়েছেন। ফলে মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী কণাত্বরকগুলোর প্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রেও নতুন দরজা খুলেছে।
নোবেল পুরস্কারের ঘোষণার ধারাবাহিকতায় পদার্থবিজ্ঞানের পর রসায়ন, সাহিত্য ও শান্তিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হবে। অর্থনীতিতে সুইডিশ রিক্সব্যাংক পুরস্কারও নোবেল সপ্তাহের শেষ দিকে ঘোষণা করা হবে।
নোবেল পুরস্কারের বিজয়ীদের সাধারণত প্রতি বছর ১০ ডিসেম্বর, আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে পদক, সনদ ও পুরস্কারের অর্থ প্রদান করা হয়।
১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়ে আসছে। বিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত।