এইচএসসি ফলাফল ২০২৬: উচ্চশিক্ষার দুয়ারে দাঁড়িয়ে সফল প্রজন্ম। রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান
২০২৬ সালের এইচএসসি ফলাফল বিশ্লেষণ এবং উচ্চশিক্ষা নিয়ে রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের বিশেষ কলাম ও পরামর্শ।
আজ ২ নভেম্বর ২০২৬। দেশের অর্থনীতির প্রাণ — পোশাক শিল্পে অশনি সংকেত। শ্রমিক অসন্তোষের জেরে একদিনে ৩১৮টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিজিএমইএ ও শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, গাজীপুর, আশুলিয়া, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের ৫টি শিল্পাঞ্চলে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।
এই বন্ধ শুধু ৩১৮টি গেটে তালা নয়, এটি প্রায় ৫ লাখ শ্রমিকের রিজিকের তালা। যাদের মাসিক বেতন ১২-১৫ হাজার টাকা, তাদের একদিনের মজুরি না পাওয়া মানে পরিবারের হাঁড়ি বন্ধ।
কেন এই অসন্তোষ?
তিনটি কারণ স্পষ্ট।
প্রথমত,গত কয়েক মাসে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে অনেক কারখানা সময়মতো বেতন দিতে পারেনি। আগামী ৪ নভেম্বর থেকে সামিট এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় গ্যাস সংকট আরও বাড়বে — এই আতঙ্কে শ্রমিকরা অগ্রিম নিরাপত্তা চাইছে।
দ্বিতীয়ত, টিসিবি কার্ড বিতর্ক ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে শ্রমিকদের বাস্তব ক্রয়ক্ষমতা কমেছে।
তৃতীয়ত,একটি মহল এই আন্দোলনে ইন্ধন দিচ্ছে। আজ মিরপুরে নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে — এটি প্রমাণ করে, শিল্পকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত চলছে।
ক্ষতিটা কার?
পোশাক শিল্প আমাদের রপ্তানি আয়ের ৮৪% দেয়। একটি কারখানা একদিন বন্ধ থাকলে গড়ে ১৫-২০ লাখ টাকার শিপমেন্ট বাতিল হয়। ৩১৮টি কারখানায় ক্ষতি দাঁড়াবে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। সবচেয়ে বড় ক্ষতি বিশ্বাসের। বিদেশি বায়াররা এখন ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়ায় অর্ডার সরিয়ে নিচ্ছে। একবার অর্ডার গেলে তা ফেরত আনা কঠিন।
সমাধান কী?
১. মালিক-শ্রমিক-সরকার ত্রিপক্ষীয় বৈঠক: আজকের মধ্যেই শ্রম মন্ত্রণালয়কে বসতে হবে। মজুরি বোর্ডের বকেয়া পর্যালোচনা করতে হবে।
২. গুজব নয়, তথ্য: অনেক শ্রমিক জানে না কেন কারখানা বন্ধ। প্রতিটি কারখানায় মাইকিং করে কারণ জানাতে হবে।
৩. রাজনৈতিক ইন্ধন বন্ধ:শিল্প এলাকাকে রাজনীতির বাইরে রাখতে হবে। যারা শ্রমিকের কাঁধে বন্দুক রেখে ফায়দা লুটতে চায়, তাদের কঠোর হাতে দমন করতে হবে।
৪. জরুরি প্রণোদনা: সরকার যে তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা ঋণ দিচ্ছে, তেমনি সংকটে পড়া শ্রমিকদের জন্য ১০-১৫ দিনের জরুরি খাদ্য সহায়তা দেওয়া যায় কিনা, তা ভাবতে হবে।
আজ জাতীয় যুব দিবস। এই পোশাক শ্রমিকদের ৬০% যুবক-যুবতী। তাদের কর্মস্থল বন্ধ রেখে “দক্ষ যুব গড়বে দেশ” স্লোগান অর্থহীন।
আমার অনুরোধ — মালিকরা শ্রমিককে শত্রু ভাববেন না, শ্রমিকরা কারখানাকে নিজের ঘর ভাবুন। আর সরকারকে বলব — পোশাক শিল্পে আগুন লাগার আগেই পানি ঢালুন। না হলে এই আগুনে পুড়বে পুরো অর্থনীতি।লেখক: রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট কলামিস্ট রাজনীতিক এবং রাষ্ট্রচিন্তক