শৈলকুপায় রাতে নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে উত্তেজনা
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পুটিমারি আউলিয়া মাদ্রাসায় রাতের বেলা নাইটগার্ড নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ। পুলিশ সুপার ও ডিজির প্রতিনিধিকে উদ্ধার করেছে।
জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) গত ১৬ বছরে (২০০৯-২০২৪) সংঘটিত যাবতীয় নিয়োগ জালিয়াতি, অবৈধ পদোন্নতি এবং আর্থিক অনিয়মের উৎস খুঁজতে বড় ধরনের তদন্ত শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ১১১তম সভার সিদ্ধান্তের আলোকে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ বা প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই বিশাল কর্মযজ্ঞ ও তদন্তভার অর্পণ করেছে একজন অভিজ্ঞ বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার ওপর। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. সাইফুজ্জামান হিরো-কে এই তদন্তকাজ পরিচালনার প্রধান দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তা গতকাল (১৬ জুন) থেকেই তাঁর আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। সংশ্লিষ্ট সব ফাইল ও তথ্য-উপাত্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে আগামী তিন মাসের মধ্যে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের (ভিসি) কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সুপারিশ সম্বলিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
তদন্ত কার্যক্রম সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতিমধ্যে সব ধরনের লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় তদন্ত কাজের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তের প্রয়োজনে জজ মো. সাইফুজ্জামান হিরো বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য, সিন্ডিকেট সদস্য, শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী—সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যক্তিকে তলব ও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সব দপ্তর, বিভাগ ও ইনস্টিটিউটকে তদন্ত কর্মকর্তাকে চাওয়া মাত্রই প্রয়োজনীয় তথ্য, রেজুলেশন ও গোপন নথি সরবরাহ করার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই বিশাল তদন্ত প্রক্রিয়ায় সার্বিক সমন্বয় ও আইনগত সহযোগিতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ মশিরুল ইসলামকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিগত দেড় দশকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধার অবমূল্যায়ন করে কেবল দলীয় পরিচয়ে শত শত শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার যে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ছিল, এই তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে তার সুষ্ঠু বিচার হবে বলে আশা করছেন সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, এই তদন্তের মাধ্যমে যারা অবৈধভাবে নিয়োগ পেয়েছিলেন বা জালিয়াতির মাধ্যমে পদোন্নতি নিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।