নানা আয়োজনে চার্টার্ড সেক্রেটারি দিবস ২০২৬ উদ্যাপন করল আইসিএসবি
দেশে চার্টার্ড সেক্রেটারি পেশার প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির দিনটি স্মরণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও কেক কাটার মাধ্যমে চার্টার্ড সেক্রেটারি দিবস ২০২৬ উদ্যাপন করেছে আইসিএসবি।
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকা: বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত সচিব মো. আতাউর রহমান খান গতকাল মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পদে যোগদান করেছেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ পরিচিতি অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, উপসচিবসহ বিভিন্ন স্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিচিতি সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, “নবনিযুক্ত সচিবের শক্তিশালী একাডেমিক ও পেশাগত ব্যাকগ্রাউন্ড এবং এই মন্ত্রণালয়ে পূর্বে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আমাদের কার্যক্রমে নতুন গতির সঞ্চার করবে। দক্ষ নেতৃত্ব ও সমন্বিত টিমওয়ার্কের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আগামী দিনে আরও ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করবে।”
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চলমান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) আলোচনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। বর্তমানে বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের এফটিএ নিয়ে আলোচনা চলছে। এই আলোচনাগুলোকে আরও ফলপ্রসূ করতে এফটিএ টিমকে দ্রুত সম্প্রসারণ ও বিশেষায়িত জনবল দিয়ে শক্তিশালী করা হবে।
ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে এফটিএ-র আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হলে আরও বড় ও দক্ষ টিম গঠন করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়া হবে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) এবং ইইউ-র বিভিন্ন সহযোগী সংস্থা ইতিমধ্যেই বাংলাদেশকে এই কারিগরি ও দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সুশাসনের ওপর জোর দিয়ে বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য শতভাগ সমান সুযোগ ও ন্যায়সংগত আচরণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মেধাবী ও যোগ্য কর্মকর্তারা কোনো অপ্রীতিকর প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই তাঁদের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারেন।
দায়িত্ব গ্রহণ করে নবনিযুক্ত বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, “বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা, আগামী অর্থবছরের বাজেট পরিকল্পনা এবং পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনায় আমাদের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যসমূহ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়ন করতে হবে। এ জন্য সবাইকে একটি পরিবার হিসেবে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কৃষি, শিল্প ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যেসব আন্তমন্ত্রণালয় বিষয় আটকে রয়েছে, সেগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিদেশে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক মিশনগুলোকে কেবল প্রথাগত দায়িত্ব পালনের গণ্ডি থেকে বের করে আরও বেশি ফলাফলনির্ভর ও দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে।