বিনোদন ডেস্ক: হলিউড পাড়ায় তাঁদের প্রেম রসায়নের কথা কারও অজানা নয়, তবে টম হল্যান্ড ও জেনডায়া সত্যিই বিয়ে করেছেন কি না—সেই রহস্যের জট আজও খুলল না। মাসকয়েক আগে জেনডায়ার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত স্টাইলিস্ট ল রোচ হুট করে এক অনুষ্ঠানে দাবি করেন যে এই তারকা যুগল ইতিমধ্যে বিয়ে সেরে ফেলেছেন এবং ভক্তরা বড় কিছু মিস করেছেন।
তাঁর এই মন্তব্যের পর বিশ্বজুড়ে হইচই পড়ে গেলেও যাঁদের নিয়ে এত আলোচনা, সেই টম ও জেনডায়া আজ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি। বিভিন্ন সিনেমা ও সিরিজের প্রিমিয়ারসহ নানা কারণে তাঁরা একাধিকবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হলেও বিয়ের প্রসঙ্গটি সব সময়ই এড়িয়ে গেছেন। এরই মধ্যে গত সোমবার স্পেনের মাদ্রিদে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সিনেমার প্রচারণামূলক ফটোশুটে প্রায় পাঁচ বছর পর বড় কোনো জনসমক্ষে একসঙ্গে পোজ দেন এই তারকা জুটি।

ক্যামেরার সামনে দুজনকে অত্যন্ত স্বাভাবিক, স্বচ্ছন্দ ও ঘনিষ্ঠ দেখালেও বিয়ের গুঞ্জন নিয়ে এবারও স্পিকটি নট ছিলেন তাঁরা।
মাদ্রিদের ওই অনুষ্ঠানে দুজনেই বেছে নিয়েছিলেন রাজকীয় কালো পোশাক। টম হল্যান্ড পরেছিলেন একটি লাল রঙের সূক্ষ্ম নকশা করা কালো স্যুট এবং জেনডায়া নজর কেড়েছেন ফ্যাশন ডিজাইনার ক্রিশ্চিয়ান কাউয়ানের ডিজাইন করা কালো স্ট্র্যাপলেস ফ্রিঞ্জড গাউনে। তাঁদের এই জমকালো উপস্থিতি ভক্তদের নজর কাড়লেও সবার মনে উঁকি দিচ্ছিল সেই পুরোনো প্রশ্ন।
মূলত মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের এই ‘স্পাইডার-ম্যান’ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়েই টম ও জেনডায়ার বন্ধুত্বের সূচনা হয়েছিল। বহু বছর ধরে সম্পর্কের গুঞ্জন অস্বীকার করার পর ২০২১ সালে তাঁরা প্রেমের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। এরপর ২০২৫ সালের গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডসের মঞ্চে জেনডায়ার আঙুলে একটি বড় হীরার আংটি দেখে তাঁদের বাগ্দানের খবর নিশ্চিত হয় ভক্তদের কাছে।
তবে বিয়ের খবর নিয়ে জেনডায়া নিজে কখনো স্পষ্ট কিছু না বললেও এক টেলিভিশন শোতে হেসে জানান যে তাঁদের বিয়ে হয়ে গেছে এমন খবর তিনি নিজেও পড়েননি। উল্টো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তাঁদের বিয়ের অনেক ছবিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি ভুয়ো ছবি বলে উড়িয়ে দেন তিনি।

ব্যক্তিগত জীবনের এই রহস্যের আবহের মাঝেই আগামী ৩১ জুলাই বিশ্বব্যাপী মুক্তি পেতে যাচ্ছে মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের ৩৮তম চলচ্চিত্র ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। ডেস্টিন ড্যানিয়েল ক্রেটনের পরিচালনায় এটি টম হল্যান্ডের ক্যারিয়ারের চতুর্থ ‘স্পাইডার-ম্যান’ একক সিনেমা।
এর আগে ‘হোমকামিং’, ‘ফার ফ্রম হোম’ ও ‘নো ওয়ে হোম’ সিনেমাগুলোতে পিটার পার্কারের ভূমিকায় অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তা পান টম। ফ্র্যাঞ্চাইজির আগের ছবি ‘নো ওয়ে হোম’-এর ঘটনার পর থেকে শুরু হবে এই নতুন ছবির গল্প, যেখানে জাদুকরী এক ঘটনার পর পৃথিবীর আর কোনো মানুষের মনে পিটার পার্কারের স্মৃতি অবশিষ্ট নেই।
ফলে সম্পূর্ণ একা হয়ে আবার নতুন করে অপরাধ দমনে নামেন তিনি। তবে পুরোনো কাছের বন্ধুরা তাঁকে ভুলে গিয়ে নিজেদের জীবন নিয়ে গুছিয়ে উঠছে দেখে ভেতরে-ভেতরে পিটার নিজেকে বদলে ফেলতে শুরু করেন। আর পিটারের এই মানসিক পরিবর্তনই তাঁকে এমন এক অদৃশ্য ও ভয়ংকর নতুন শত্রুর মুখোমুখি দাঁড় করাবে, যার অস্তিত্ব সাধারণ মানুষ দেখতেই পাবে না।
ছবিতে টম ও জেনডায়ার পাশাপাশি আরও অভিনয় করেছেন স্যাডি সিঙ্ক এবং মার্ক রাফালোর মতো জনপ্রিয় তারকারা। সিনেমা মুক্তির দিন যত ঘনিয়ে আসছে, বড় পর্দায় এই জুটির রসায়ন দেখার পাশাপাশি তাঁদের বাস্তব জীবনের চার হাত এক হওয়ার খবরটি জানার জন্যও ভক্তদের অপেক্ষা ততটাই বাড়ছে।