আর্জেন্টিনার ঘাম ছুটিয়ে দেওয়া কেপ ভার্দে: চেনেন কি এই দ্বীপরাষ্ট্রকে?
ফুটবলবিশ্বে রাতারাতি হইচই ফেলে দিয়েছে ছোট্ট এক দেশ—কেপ ভার্দে। শক্তিশালী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নেমে যেভাবে তারা চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে, তাতে ম্যাচ হারলেও ফুটবলপ্রেমীদের…
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি ‘ভেস্তে গেছে’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘোষণার পরপরই তেহরানকে সতর্ক করে দিয়ে বুধবার তিনি নতুন করে হামলার হুঁশিয়ারি দেন। তবে ওয়াশিংটন পুরোদমে সংঘাতে জড়াবে কিনা, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
তুরস্কের আঙ্কারায় চলমান ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ইরানি নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, তেহরান চুক্তির শর্ত মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছে। গত মঙ্গলবার মার্কিন বাহিনীর নেওয়া সামরিক পদক্ষেপের পর বুধবার রাতেও যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসার আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমি তাদের একটি ছোট সতর্কবার্তা দিতে চাই—আজ রাতেই আমরা তাদের ওপর অত্যন্ত জোরালো আঘাত হানতে যাচ্ছি।”
এর আগে আঙ্কারায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, দুই দেশের মধ্যকার প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করা সমঝোতা স্মারকটির কার্যকারিতা এখন আর নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে।
অবশ্য দুই দেশের উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নেবে কিনা কিংবা এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে স্থায়ী রূপ দিতে নতুন কোনো কূটনৈতিক আলোচনা হবে কিনা, সে ব্যাপারে ট্রাম্প স্পষ্ট কিছু বলেননি। তবে তেহরান যেন কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, নিজের সেই পুরোনো অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। একই সাথে ইঙ্গিত দিয়েছেন, কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই হয়তো এই লক্ষ্য অর্জন করতে হবে।
ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের করা চুক্তির আওতায় তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে পারত না। তবে শেষ পর্যন্ত নতুন কোনো চুক্তি হবে কিনা, তা আমি জানি না। আমরা হয়তো কোনো চুক্তি ছাড়াই এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করব। কারণ এই মানুষগুলো কেবল মিথ্যা আর প্রতারণার আশ্রয় নেয়।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার জেরে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সামরিক আঘাত হানে মার্কিন বাহিনী। এর জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। দুই দেশের এই আকস্মিক সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
নতুন করে শুরু হওয়া এই উত্তেজনা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে। শিপিং ডাটা অনুযায়ী, এই অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি এড়াতে অন্তত চারটি তেল ও গ্যাস পরিবাহী ট্যাংকার ইতিমধ্যেই মাঝপথ থেকে তাদের যাত্রা বাতিল করে ফিরে গেছে।