গভীর রাতে জনমানবহীন কিংবা নিঝুম রাজপথে যখন পুরো নগরবাসী ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই প্রথাগত প্রটোকলের খোলস ভেঙে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে সাথে নিয়ে নিজ হাতে গাড়ি চালিয়ে রাজধানী পরিদর্শনে বের হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাজধানীর সড়ক, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ফুটপাতের অবস্থা, সড়কবাতি ও রাতের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করার এই আকস্মিক উদ্যোগ কেবল প্রশংসনীয়ই নয়, বরং আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনবান্ধব নেতৃত্বের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।
আমলাতান্ত্রিক ফাইল-পত্র আর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের পরিচ্ছন্ন প্রতিবেদনের বাইরে গিয়ে মাঠপর্যায়ের প্রকৃত সত্য নিজের চোখে পরখ করা একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়কের দূরদর্শিতার পরিচয় দেয়। আমাদের দেশের নগর ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবায় দীর্ঘদিনের এক প্রধান ব্যাধি ছিল—কাজের সঠিক তদারকি ও জবাবদিহিতার অভাব।
এর আগে পবিত্র ঈদুল আজহার রাতে পরিদর্শনের সময় দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পেয়ে দুই কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করার যে কঠোর ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা পরিচ্ছন্নতা কর্মী থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা—সকলের মধ্যেই প্রশাসনিক গতিশীলতা ও সততার এক ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এই আকস্মিক পরিদর্শন প্রমাণ করে যে, নাগরিক সেবায় বিন্দুমাত্র গাফিলতি বরদাশত না করাই এই সরকারের মূল নীতি।
ডিএনসিসি প্রশাসককে সাথে নিয়ে সরাসরি সমস্যা চিহ্নিত করার এই উদ্যোগের ফলে বেশ কিছু প্রত্যক্ষ সুবিধা অর্জিত হবে। কাগজের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে সিটি করপোরেশনের প্রকল্প ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পুনর্মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।
রাতের আঁধারে সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো (যেমন: বর্জ্য অপসারণকারী দল, নাইট ট্রাফিক, সিকিউরিটি গার্ড ও সড়ক মেরামতকারী গোষ্ঠী) কাজে নিয়োজিত আছে কি না, তা সরাসরি তদারকির আওতায় আসবে।
প্রটোকলের বিশাল বহর ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নিজ হাতে গাড়ি চালিয়ে শহর পরিদর্শন সাধারণ নাগরিকদের সাথে প্রশাসনিক ব্যবস্থার দূরত্ব অনেকাংশে কমিয়ে এনেছে।
একটি মেগাসিটিকে বাসযোগ্য রাখা এবং নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান উন্নত করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং কাজ। কিন্তু শীর্ষ নেতৃত্ব যখন নিজে উদ্যোগী হয়ে মাঠপর্যায়ে তদারকি নিশ্চিত করেন, তখন প্রশাসনিক যন্ত্র স্বাভাবিকভাবেই গতি পায় এবং দায়িত্ব পালনে প্রতিটি স্তর বাধ্য থাকে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সরজমিনে পরিদর্শন ও জনবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি অব্যাহত থাকলে ঢাকার সার্বিক নগরসেবায় এক বৈপ্লবিক ও টেকসই পরিবর্তন আসবে বলে আমরা আশাবাদী।
লেখক: রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।