পুলিশি ব্যবস্থায় অনাস্থা ও জেনজির আন্দোলন: দক্ষিণ এশিয়ার পুলিশ সংস্কারের তাগিদ
ঔপনিবেশিক দমনমূলক পুলিশি ব্যবস্থা ও দক্ষিণ এশিয়ায় জেন-জি আন্দোলনের প্রভাব নিয়ে সাবেক সিনিয়র উপপ্রধান মাহফুজুর রহমান সৈকতের বিশেষ কলাম।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সাম্প্রতিক বক্তব্য দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত কঠিন বাস্তবতাকে নতুন করে উন্মোচিত করেছে। সিরাজগঞ্জ পৌরসভায় এক মতবিনিময় সভায় তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অপরিনামদর্শী ঋণ ও অপচয়ের কারণে বাংলাদেশ এক ধরনের অর্থনৈতিক ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
সঠিক ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা না হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করাও অদূর ভবিষ্যতে কঠিন হয়ে পড়তে পারে। রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর এই বিপুল ঋণের বোঝা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি কেবল একটি প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ নয়, এটি পুরো দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর এক বিরাট হুমকি।
বিশেষ করে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত গত দেড় দশকে যেভাবে অসম চুক্তি, ক্যাপাসিটি চার্জের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুণ্ঠন এবং আমদানিনির্ভরতার চক্রে আটকা পড়েছে, তা এখন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে হলে নিছক সাময়িক জোড়াতালি না দিয়ে একটি কঠোর ও সমন্বিত জাতীয় কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন।
ক্যাপাসিটি চার্জের মারাত্মক বোঝা: চাহিদার সঠিক হিসাব না করে একের পর এক বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাথে অসম চুক্তি করা হয়েছে, যার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও কেন্দ্রগুলোকে বসে বসেই কোটি কোটি টাকার ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ দিতে হচ্ছে।
দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাদ দিয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় আমদানিকৃত এলএনজি (LNG) ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেই বা দেশে ডলার সংকট দেখা দিলেই বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
পিডিবি ও জ্বালানি বিভাগের বকেয়া দেনার পরিমাণ পাহাড়সম রূপ নিয়েছে, যার প্রভাবে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদক ও বিদেশী সরবরাহকারীরা সংযোগ বা জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করছে।
“সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়”— বিদ্যুৎমন্ত্রী
বিগত আমলের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সাথে সম্পাদিত চুক্তিগুলো দ্রুত স্বাধীন কমিশন দ্বারা পর্যালোচনা করতে হবে। রাষ্ট্রীয় স্বার্থবিরোধী ও অন্যায্য ক্যাপাসিটি চার্জের ধারা সংশোধন করে কেবল উৎপাদিত বিদ্যুতের ওপর ভিত্তি করে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে।
আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে বঙ্গোপসাগর ও স্থলভাগের নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে। একই সাথে সৌরশক্তি ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়িয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা দরকার।
মাননীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী যেমন উল্লেখ করেছেন—মানুষের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ না দিয়েও বিদ্যমান বাজেট কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও অবকাঠামোর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিদ্যুৎ চুরি ও অপচয় রোধে কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে একটি স্বাবলম্বী ও টেকসই বিদ্যুৎ খাত গড়ে তোলা রাতারাতি সম্ভব নয়, তবে সততা ও সঠিক পরিকল্পনার সমন্বয় থাকলে এটি অসম্ভবও নয়। মন্ত্রী যেভাবে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণকে জনগণের সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, ঠিক তেমনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকেও জাতীয় সম্পদ বিবেচনা করে এর প্রতিটি পয়সার অপচয় বন্ধ করতে হবে।
জনগণ ও প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টায় এই ভয়াবহ সংকট কাটিয়ে বাংলাদেশ একটি প্রবৃদ্ধিশীল ও আলোকময় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে—এটাই দেশবাসীর একমাত্র প্রত্যাশা।
লেখক: রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট কলামিস্ট, রাজনীতিবিদ ও রাস্ট্রচিন্তক।