নুসরাত হত্যা মামলা: হাইকোর্টে তৃতীয় দিনের শুনানি সম্পন্ন, পরবর্তী শুনানি রোববার
ফেনীর নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর ৩য় দিনের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। ৩৪ জনের সাক্ষ্য উপস্থাপন শেষ। বিস্তারিত খবর দৈনিক শব্দমিছিলে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় দীর্ঘ সময় ধরে পলাতক থাকা দুই অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যকে গ্রেফতারে রেড নোটিশ জারি করেছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা—ইন্টারপোল।
গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পৃথক এই রেড নোটিশ জারি করা হয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি হলেন— সাবেক সার্জেন্ট মো. জাহিদুজ্জামান এবং সাবেক সৈনিক মো. শাহীন আলম। ঘটনার সময় তারা যথাক্রমে কুমিল্লা সেনানিবাসে সার্জেন্ট ও সৈনিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘ তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে পুলিশ সে অনুযায়ী উদ্যোগ নেয়। তবে বর্তমানে তাদের অবস্থান অজ্ঞাত রয়েছে এবং তারা পলাতক বলে তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সূত্র জানায়, পলাতক ওই দুই অভিযুক্তকে আন্তর্জাতিকভাবে শনাক্ত করতে, তাদের অবস্থান নিশ্চিত করতে এবং সন্ধান মিললে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী গ্রেফতারের পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ঢাকার মাধ্যমে ইন্টারপোলের কাছে রেড নোটিশ জারির আবেদন করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ইন্টারপোল তাদের বিরুদ্ধে এই নোটিশ জারি করে।
ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির ফলে সংস্থাটির সদস্যদেশগুলোর আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অভিযুক্তদের শনাক্ত ও তাদের অবস্থান নির্ণয়ে পারস্পরিক পুলিশি সহযোগিতা করতে পারবে। বিশ্বের যেকোনো দেশে তাদের অবস্থান শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কাঠামোর অধীনে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
এ মামলার তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে পিবিআইয়ের পরিদর্শক ও তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম জানান, মামলাটিতে গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়।
২০২৩ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়া হাফিজুর বর্তমানে কুমিল্লা কারাগারে বন্দি আছেন। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনিও কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন নাট্যকর্মী ও শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু। পরে রাতে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি ঝোপের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়।
ঘটনার পরদিন তনুর বাবা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের তৎকালীন অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটির পর ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল ও ১২ জুন দুই দফা ময়নাতদন্ত করা হলেও ফরেনসিক বিভাগ মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে মামলাটির তদন্তভার পিবিআইয়ের হাতে ন্যস্ত হয়।