নড়াইলে মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু, ৩ শিক্ষক আটক
নড়াইলে শিক্ষকের মারধরে মাদ্রাসাছাত্র সৈয়দ সুলায়মান ইসলামের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।
দেশের সব নাগরিকের জন্য একক ও স্থায়ী পরিচয়পত্র চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় এখন থেকে জন্মের পরই শিশুরা ডিজিটাল পরিচয়পত্র বা ‘এক-আইডি’ পাবে। সারা জীবন স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ যেকোনো ধরনের নাগরিক সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে এই একটিমাত্র কার্ডই ব্যবহার করতে হবে।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, স্থায়ী ও স্বতন্ত্র এই পরিচয়পত্র তৈরির জন্য ‘ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাকসেস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স’ বা ‘ডি-স্টার’ (D-STAR) নামক নতুন একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত। বর্তমানে প্রকল্পটি অনুমোদনের প্রক্রিয়ার জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
বর্তমানে দেশে শিশুদের জন্য জন্মনিবন্ধন সনদ এবং ১৮ বছর বয়স হলে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে নতুন ‘এক-আইডি’ চালুর ফলে ধীরে ধীরে বিদ্যমান অন্যান্য কার্ডের কার্যকারিতা ফুরিয়ে আসবে। আইসিটি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই একক কার্ডের মাধ্যমেই জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো বিভিন্ন সেবার সুবিধা পাওয়া যাবে, যদিও সবকিছু এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, দেশে বর্তমানে নানা ধরনের কার্ড থাকলেও সেগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভাব রয়েছে। অনেকের একাধিক জন্মনিবন্ধন বা পাসপোর্টও রয়েছে। নতুন এই কার্ডটি হবে একক ও স্থায়ী। ফলে জন্ম নেওয়া নতুন শিশু থেকে শুরু করে সবার জন্য এটিই হবে মূল পরিচয় এবং পরবর্তীতে আলাদা আর কোনো কার্ডের প্রয়োজন হবে না।
যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, এস্তোনিয়া ও ভারতের অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এই পরিচয়পত্রের ধারণার নাম দিয়েছেন ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’। অর্থাৎ, প্রতিটি নাগরিকের একটিমাত্র কার্ড থাকবে, যা একই সঙ্গে তাঁদের ডিজিটাল পরিচয় ও ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। তবে এতে সুনির্দিষ্টভাবে কী কী তথ্য থাকবে, তা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।
প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ জনশুমারির তথ্য ধরে দেশের ১৮ কোটি নাগরিকের জন্য এই পরিচয়পত্র তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তা ও ব্যাকআপের জন্য মোট ২০ কোটি কার্ড উৎপাদন ও মুদ্রণ করা হবে।
পলিকার্বোনেট চিপযুক্ত প্রতিটি কার্ড উৎপাদন ও মুদ্রণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ ডলার (২৪৬ টাকা)। কার্ড বিতরণ ও সরবরাহে খরচ ধরা হয়েছে ১ ডলার (১২৩ টাকা)। সে হিসেবে উৎপাদন, মুদ্রণ, বিতরণ ও সরবরাহ মিলিয়ে প্রতিটি কার্ডে মোট খরচ পড়বে ৩১৯ বা ৩৬৯ টাকা।
পুরো প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেবে ৭ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা এবং বাকি ১ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা আসবে বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে। এর একটি বড় অংশ অর্থাৎ ৭ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা খরচ হবে কার্ড উৎপাদন, মুদ্রণ এবং নাগরিকদের বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ) তথ্য সংগ্রহ ও বিতরণে। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড তৈরিতে ১ হাজার ৯০৬ কোটি এবং কৃষক কার্ডে ৬৮১ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা রয়েছে।বিদ্যমান এনআইডি, জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং টিআইএনের মতো তথ্যভান্ডারগুলোর মধ্যে কার্যকর আন্তসংযোগ (ইন্টিগ্রেশন) তৈরি করলে নাগরিকদের একই তথ্য বারবার দিতে হতো না এবং ভোগান্তি কমতো বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেনের মতে, নতুন কোনো প্রকল্প নেওয়ার আগে বিদ্যমান জাতীয় পরিচয়পত্রকেই ১৮ বছরের কম বয়সীদের যুক্ত করে একক পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
এদিকে বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে এই বিশাল অঙ্কের ব্যয় নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কেউ কেউ রাজস্ব ঘাটতির কথা বলে বিশাল ব্যয়ের সমালোচনা করলেও, অপরপক্ষ মনে করছে পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের পুরো সময়জুড়ে একই সংকট থাকবে না।