নারী ক্রিকেটে ইতিহাস মান্ধানার, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের মালিক এখন তিনি
মিতালি রাজকে পেছনে ফেলে নারী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের মালিক হয়েছেন ভারতের স্মৃতি মান্ধানা। হংকংয়ের বিপক্ষে ১২৪ রানের ইনিংসে গড়েছেন একাধিক
ক্রীড়া: সাদা জার্সি ছেড়েছেন, কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদকে মন থেকে ছাড়তে পারেননি লুকা মদ্রিচ। ৪১ বছরে পা দিতে যাওয়া এই ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার বর্তমানে এসি মিলানে খেললেও ভবিষ্যতে আবারও রিয়াল মাদ্রিদে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। তবে খেলোয়াড় হিসেবে নয়, ক্লাবের জন্য কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্ব নিয়েই ফিরতে চান তিনি।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মদ্রিচ বলেন, রিয়াল মাদ্রিদ তাঁর কাছে সবসময়ই ‘বাড়ি’ হয়ে থাকবে। একদিন ক্লাবটিতে ফেরার স্বপ্নও দেখেন তিনি। তবে শুধু অতীতের পরিচয় বা নিজের নামের কারণে ক্লাবে ফিরতে চান না এই তারকা।
মদ্রিচের ভাষায়, রিয়ালে ফিরলে তিনি এমন কোনো দায়িত্ব নিতে চান, যেখানে তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে এবং ক্লাবের জন্য সত্যিকারের অবদান রাখতে পারবেন। অর্থাৎ শুধু ‘রিয়ালের সাবেক খেলোয়াড়’ হিসেবে নয়, বরং কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েই সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ফিরতে চান তিনি।
মদ্রিচ বলেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদ আমার বাড়ি এবং সবসময়ই থাকবে।’ ক্লাবটির হয়ে কাটানো সময়কে নিজের পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের সেরা সময়গুলোর অন্যতম হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে ভবিষ্যতে ফিরলে কী ভূমিকায় ফিরবেন, তা এখনই নির্ধারিত নয়। তাঁর মতে, রিয়ালের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ এলে সেটি অবশ্যই অর্থবহ হতে হবে।
মদ্রিচের বক্তব্য, তিনি এমন কোনো কাজ করতে চান না যেখানে শুধু তাঁর নাম থাকবে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো দায়িত্ব বা উদ্দেশ্য থাকবে না। বরং নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে ক্লাবকে সহায়তা করাই হবে তাঁর প্রত্যাশা।
রিয়ালের প্রতি গভীর টান থাকলেও বর্তমানে এসি মিলানে বেশ ভালো সময় কাটাচ্ছেন মদ্রিচ। ক্লাবটিতে দ্বিতীয় মৌসুমও চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। মিলানে শুরু থেকেই ক্লাব ও সমর্থকদের কাছ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন বলে জানান এই মিডফিল্ডার।
শৈশব থেকেই এসি মিলানের প্রতিও তাঁর আলাদা ভালোবাসা ছিল। ইতালিয়ান ফুটবল দেখার সময় মিলানকে তাঁর প্রিয় দলগুলোর একটি হিসেবে মনে হতো বলেও জানিয়েছেন তিনি।
দুই ক্লাবের তুলনা করতে গিয়ে মদ্রিচ রিয়াল মাদ্রিদকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্লাব হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ফুটবলে এসি মিলানের ঐতিহ্য ও সাফল্যেরও প্রশংসা করেন তিনি।
৪১ বছর বয়সের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েও অবসরের কথা ভাবছেন না মদ্রিচ। তাঁর কাছে বয়সের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শরীরের সক্ষমতা, পারফরম্যান্স এবং ফুটবলের প্রতি আগ্রহ।
তিনি জানিয়েছেন, যতদিন শরীর সাড়া দেবে, নিজের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট থাকবেন এবং ফুটবল উপভোগ করবেন, ততদিন খেলা চালিয়ে যেতে চান। অবসরের সময় ঘনিয়ে আসছে—এটি তিনি স্বীকার করলেও এখনই মাঠ ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা নেই তাঁর।
ছয় বছর বয়সে ফুটবলে পা রাখা মদ্রিচের খেলোয়াড়ি জীবনের বয়স এখন তিন দশকেরও বেশি। দীর্ঘ এই ক্যারিয়ারে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তিনি নিজেকে ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম সফল মিডফিল্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
এখনও তাঁর লক্ষ্য মাঠে নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দেওয়া। আর খেলোয়াড়ি অধ্যায় শেষ হওয়ার পর যদি কখনও রিয়ালে ফেরার সুযোগ আসে, সেটি হবে ক্লাবের জন্য কার্যকর কিছু করার উদ্দেশ্যেই—এমনটাই স্পষ্ট করেছেন এই ক্রোয়েশিয়ান ফুটবল তারকা।