একীভূত হওয়ার পর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে প্রথম দিনে ১৮ হাজার গ্রাহকের ১৩০০ কোটি টাকা ফেরত চাওয়ার আবেদন
একীভূত হওয়া সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে প্রথম দিনে ১৮ হাজার আমানতকারী ১৩০০ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন করেছেন। টাকা দেওয়া শুরু ৭ সেপ্টেম্বর।
নওগাঁয় সারের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে বাড়তি দাম নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। ৫০ কেজির বস্তাপ্রতি ডিএপি ও ইউরিয়া সার সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অন্তত ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন প্রান্তিক চাষিরা। যদিও জেলা কৃষি বিভাগ দাবি করছে, সারের কোনো সংকট নেই এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে।
নওগাঁর বিভিন্ন মাঠে এখন আমন ধানের সবুজের সমারোহ। পানি সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। তবে ঠিক এই সময়ে সারের সিন্ডিকেট ও বাড়তি দামের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় চরম উদ্বেগে পড়েছেন তারা।
মহাদেবপুর উপজেলার খোদ্দনারায়ণপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান জানান, আড়াই বিঘা জমিতে আমন আবাদ করায় বাধ্য হয়েই তাঁকে চড়া দামে ডিএপি ও ইউরিয়া সার কিনতে হচ্ছে। সারের এই বাড়তি দামের কারণে চলতি মৌসুমে তাঁর প্রতি বিঘায় অন্তত এক হাজার টাকা এবং সব মিলিয়ে দেড় হাজার টাকার বেশি অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। একই জমিতে একাধিক ফসল চাষ হওয়ায় উর্বরতা ধরে রাখতে ও কাঙ্ক্ষিত ফলন পেতে সার প্রয়োগ বাড়ানো ছাড়া কোনো উপায় থাকছে না।
অন্যদিকে খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, ডিলার পর্যায় থেকে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই পাইকারি বাজার থেকে বাড়তি দামে কিনে সামান্য লাভে তা খুচরা বিক্রয় করতে হচ্ছে।ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ডিলার সমিতি ও কৃষি বিভাগের
নওগাঁ বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিজানুর রহমান তালুকদার জানান, বিসিআইসি ডিলাররা যদি সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে এক টাকাও বেশি নেন এবং তার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সাংগঠনিক শাস্তির পাশাপাশি লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অসাধু ডিলারদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা এখন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের দেওয়া রয়েছে।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজুর রহমান জানান, জেলায় সারের কোনো ঘাটতি নেই। তারা মাঠপর্যায়ে সার্বিক তদারকি করছেন এবং সঠিক সার ও পানি ব্যবস্থাপনায় কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে নওগাঁ জেলায় ১ লাখ ৯৬ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে জেলাজুড়ে ৪৩ হাজার ৭৯ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ রয়েছে। কৃষকদের দাবি, দ্রুত বাজার তদারকি জোরদার করে কৃত্রিম সংকট তৈরিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে আমনের বাম্পার ফলন ব্যাহত হতে পারে।