আন্তর্জাতিক: চার বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেন সফরে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। স্থানীয় সময় শুক্রবার ট্রাম্প নিজেই তাঁর এই দুই বিশেষ দূতকে মস্কো ও কিয়েভে পাঠানোর ঘোষণা দেন।
গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় হোয়াইট হাউসে ক্ষমতা গ্রহণের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত কিয়েভে কুশনার ও উইটকফের এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম সফর। উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত দ্রুত সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিলেন ট্রাম্প।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, কুশনার ও উইটকফ সঙ্গে করে যুদ্ধ অবসানের একটি নতুন প্রস্তাব নিয়ে গেছেন। তবে এই শান্তি পরিকল্পনায় ইউক্রেনকে কোনো ভূখণ্ড ছাড় দিতে হবে কি না, সে বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কোনো স্পষ্ট মন্তব্য করেননি। তিনি কেবল বলেন, ‘শান্তির জন্য আমাদের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।’
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই মার্কিন দূত ইতিমধ্যে শুক্রবার রওনা হয়েছেন এবং আজ শনিবার ক্রেমলিনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁদের বৈঠক করার কথা রয়েছে। এরপর আগামী রবিবার তাঁরা কিয়েভে গিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তবে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। ট্রাম্প এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যকার একটি ‘ব্যক্তিত্বগত সমস্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে পাঠিয়েছি। তাঁরা দুজনেই অত্যন্ত দক্ষ আলোচক এবং অতীতে দারুণ কাজ করেছেন। কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায় কি না, তা দেখার জন্যই তাঁদের পাঠানো হয়েছে এবং আমাদের সফল হওয়ার ভালো সম্ভাবনাও রয়েছে।’
মার্কিন দূতদের এই সফরের প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আলোচনার সময় সাময়িক যুদ্ধবিরতি পালনের প্রস্তাব দিয়েছেন। নিজের নিয়মিত সন্ধ্যার ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে আকাশপথে কোনো হামলা চালানো হবে না। একইভাবে রাশিয়াকেও যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে, অর্থাৎ তাদের দিক থেকেও কোনো বিমান হামলা চালানো যাবে না। শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য যত দীর্ঘ সময় প্রয়োজন, এই যুদ্ধবিরতি ততটাই বহাল রাখতে হবে।’
উভয় মার্কিন দূত অতীতেও মস্কো সফর করায় অতীতে তাঁদের বিরুদ্ধে কিছুটা রুশপ্রীতির অভিযোগ উঠেছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় ও ত্রিপক্ষীয় কূটনীতি চার বছরের এই দীর্ঘ যুদ্ধ বন্ধে কোনো স্থায়ী সমাধান বয়ে আনে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।