উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে শিশুধর্ষণ, ৭ মাসে মামলা বেড়েছে ৪৯ শতাংশ
দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশুধর্ষণের ঘটনা। চলতি বছরের প্রথম ৭ মাসে ১,৪৮৫টি মামলা হয়েছে। পরিসংখ্যান ও চিত্র তুলে ধরেছে পুলিশ সদর দপ্তর।
বিশেষ প্রতিবেদক: কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে কৃষকদের ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯৮ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি বর্তমানে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের দৃষ্টিতে এটি সরাসরি আইনভঙ্গ ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা হলেও, বিশ্লেষকদের মতে—এটিকে কেবল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হিসেবে দেখলে মূল সংকটটি আড়ালে থেকে যাবে। প্রশ্ন হলো, কৃষকেরা কেন বাধ্য হয়ে এমন একটি চরম পথ বেছে নিলেন?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার দিনগুলোতে ভুরুঙ্গামারীর কৃষকেরা সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার পাচ্ছিলেন না। ডিলারের গুদাম ‘খালি’ দেখানো হলেও খোলাবাজারে চড়া দামে ঠিকই সার পাওয়া যাচ্ছিল। অর্থাৎ, বাজারে সারের কোনো ঘাটতি ছিল না; বরং সরকারি মূল্যে তা কৃষকের নাগালের সম্পূর্ণ বাইরে চলে গিয়েছিল।
কৃষকের কাছে সার কোনো সাধারণ বাণিজ্যিক পণ্য নয়। বীজ, সেচ, শ্রম ও ঋণের সঙ্গে এটি সরাসরি জড়িত ফসল উৎপাদনের অন্যতম প্রধান জীবনরেখা। সময়মতো সার না পেলে জমির ফলন নষ্ট হয়, কৃষকের বিনিয়োগ ভেস্তে যায়, ঋণের বোঝা বাড়ে এবং পুরো পরিবারের খাদ্য ও আয়ের নিরাপত্তা বিপন্ন হয়। সরকারি মূল্যে সার বরাদ্দ থাকার পরও তা না পেয়ে যখন অসাধু চক্রের মাধ্যমে কালোবাজারে চড়া দামে বিক্রি হতে দেখা যায়, তখন কৃষকের ক্ষোভ ফেটে পড়াই স্বাভাবিক।
ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ ই পি থম্পসনের ‘নৈতিক অর্থনীতি’ (Moral Economy) ধারণা অনুযায়ী, কেবল পণ্যের দাম বাড়লেই মানুষ বিক্ষুব্ধ হয় না; ক্ষোভ তীব্র হয় তখনই, যখন সমাজ বা রাষ্ট্রের প্রচলিত ন্যায্যতার ধারণা লঙ্ঘিত হয়। সাধারণ মানুষের মতে, খাদ্যের মতো কৃষি উপকরণও কেবল মুনাফার বস্তু হতে পারে না।
ভূরুঙ্গামারীর ঘটনায় কৃষকেরা কেবল সার নেননি, তাঁরা বিদ্যমান ব্যবস্থার নৈতিকতাকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। জনগণের অর্থে দেওয়া সরকারি ভর্তুকির সার যদি কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানোর বদলে মধ্যস্বত্বভোগী ও অসাধু ডিলারদের পকেট ভারী করে, তবে তা কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, এটি একধরনের বড় সামাজিক ন্যায়বিচারেরও ব্যর্থতা।
এর আগে ১৯৯৫ সালে গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জে ন্যায্য দামে সারের দাবিতে কৃষকদের আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঐতিহাসিক ঘটনা কিংবা সাম্প্রতিক ভুরুঙ্গামারীর ক্ষোভ—সবকিছুই প্রমাণ করে যে সারসংকট এবং এর দুর্বল প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নতুন কোনো বিষয় নয়। সারের সিন্ডিকেট ভেঙে প্রকৃত কৃষকের হাতে সরকারি মূল্যে সার পৌঁছাতে না পারলে এ ধরনের ক্ষোভ বারবার ফিরে আসাই স্বাভাবিক।