আগস্টে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৮১, বড় অংশই মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের আগস্ট মাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ৫১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৭৬ জনই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন।
কিশোরগঞ্জ: ঢাকঢোলের বাদ্য, মাঝিদের হইহুল্লোড় আর ছন্দে ছন্দে বইঠা চালানোর শব্দে মুখর হয়ে উঠেছিল কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার ধনপুর বাজারসংলগ্ন সুরমা নদী। গত শনিবার দিনব্যাপী আয়োজিত এই ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ দেখতে নদীর দুই পাড়ে জড়ো হয়েছিল হাজারো মানুষ। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় কিশোরগঞ্জের পাশাপাশি হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনা থেকেও এসেছিলেন বহু উৎসাহী দর্শক।
যুগের পর যুগ ধরে হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে নৌকার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। বর্ষায় বিস্তীর্ণ হাওর পানিতে তলিয়ে গেলে নৌকাই হয়ে ওঠে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যেতে বসা গ্রামবাংলার এই লোকজ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে এবং যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করতে ধনপুর ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের করা হয়।
বাইচ দেখতে আসা আরাফাত ইসলাম জানান, ২৫ বছর বয়স হলেও জীবনের প্রথমবার নৌকাবাইচ দেখার আনন্দ উপভোগ করতে ৩০ জনের সঙ্গী নিয়ে ইটনার আড়ালিয়া এলাকা থেকে নৌকায় করেই সুরমা নদীতে হাজির হয়েছিলেন তাঁরা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা এই বাইচে নৌকাতেই দুপুরের রান্নাবান্না ও খাওয়ার আয়োজন করেছিলেন তাঁরা।
প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন এলাকা থেকে অংশ নেয় মোট ১২টি নৌকা। বাইচ শুরু হতেই বদলে যায় নদীর চরাচর। মাঝিদের সমস্বরে হাকডাক আর তালের সঙ্গে বইঠা টানার দৃশ্য দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উন্মাদনা সৃষ্টি করে। কখনো এক নৌকা এগিয়ে যায় তো পরক্ষণেই অন্যটি তাকে পেছনে ফেলে দেয়। নদীর দুই পাড় থেকে দর্শকেরা হর্ষধ্বনি ও হাততালিতে নিজেদের পছন্দের দলকে উৎসাহ দেন। অনেকেই মুঠোফোনে ধারণ করেন সেই রোমাঞ্চকর মুহূর্তগুলো।
তীব্র প্রতিযোগিতার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা এবং ইটনার ধনপুর ঘোষপাড়ার হয়ে অংশ নেওয়া ‘শাপলা বয়েজ ক্লাব’-এর নৌকা প্রথম স্থান অধিকার করে। বিজয়ী দলের হাতে প্রথম পুরস্কার হিসেবে তুলে দেওয়া হয় আকর্ষণীয় ‘সোনার হরিণ’। এ ছাড়া দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে ‘রুপার ময়ূর’ এবং তৃতীয় স্থান অধিকারীকে একটি এলইডি টেলিভিশন প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উম্মে কুলসুম রেখা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাখন চন্দ্র সূত্রধর উপস্থিত থেকে আনন্দ উপভোগ করেন। স্থানীয়রা মনে করেন, এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মকে তাদের শেকড় ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত করবে।