কিশোরগঞ্জের ইটনায় সুরমা নদীতে সুরের ছন্দে নৌকাবাইচ: প্রথম পুরস্কার ‘সোনার হরিণ’
কিশোরগঞ্জের ইটনার সুরমা নদীতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলো গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার দেওয়া হয় ‘সোনার হরিণ’।
ঢাকা: শিল্পায়ন, কৃষির যান্ত্রিকীকরণ ও যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে জ্বালানির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তবে দেশের জ্বালানিব্যবস্থার মূল দুর্বলতা রয়ে গেছে আমদানিনির্ভরতায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জ্বালানি আমদানিতে রেকর্ড ১০ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ, অন্তত ৯০ দিনের কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা এবং পরিশোধন ক্ষমতা বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
দেশে ব্যবহৃত পেট্রোলিয়ামজাত জ্বালানির প্রায় পুরোটাই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের জন্য রাষ্ট্রীয় একমাত্র প্রতিষ্ঠান ‘ইস্টার্ন রিফাইনারি’র বার্ষিক সক্ষমতা প্রায় ১৫ লাখ টন, যা দেশের মোট চাহিদার তুলনায় অনেকটাই কম। ফলে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভর করতে হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যহ্রাসের সুফল থেকেও দেশ বঞ্চিত হয়। ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা বাড়িয়ে ৪৫ লাখ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনাটি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংঘাত হরমুজ প্রণালিতে তেল ও এলএনজি পরিবহনে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে, যা সরাসরি দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার, আমদানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির বড় অংশ এখনো মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি সংগ্রহের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তাকে আরও ত্বরান্বিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। জরুরি সময়ে ভারত বা অন্যান্য প্রতিবেশী দেশ থেকে পাইপলাইন ও স্থলপথে জ্বালানি আনার সুযোগগুলোকে কাজে লাগাতে হবে।
জ্বালানি নিরাপত্তার প্রথম শর্ত পর্যাপ্ত মজুত উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের মজুত স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়ার ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে অন্তত ৯০ দিনের কৌশলগত মজুত গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে গভীর সমুদ্রবন্দর, টার্মিনাল, পাইপলাইন ও স্টোরেজ ট্যাংকের সক্ষমতা বাড়িয়ে সরবরাহব্যবস্থা আরও গতিশীল করতে হবে।
জ্বালানি আমদানিতে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে দামের ওঠানামা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া জ্বালানি খাতকে কেবল বিপিসি বা পেট্রোবাংলার একার দায়িত্ব না ভেবে জ্বালানি, অর্থ, পররাষ্ট্র, বিদ্যুৎ ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি ‘স্থায়ী আন্তমন্ত্রণালয় জ্বালানি নিরাপত্তা কাঠামো’ গড়ে তোলার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সময়োপযোগী এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে যেকোনো বৈশ্বিক সংকটেও দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা সম্ভব হবে।