সংসদে রুমিন ফারহানার বক্তব্য হট্টগোলে পণ্ড হওয়ায় বিরোধীদলীয় নেতার ক্ষোভ
জাতীয় সংসদে হট্টগোলের কারণে রুমিন ফারহানার বক্তব্য শুনতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। স্পিকারের কাছে এর প্রতিকার চেয়েছেন তিনি।
ঢাকা: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদি। আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বঙ্গভবনে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় ইরানের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক অভিনন্দনপত্র হস্তান্তর করেন রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, গভীর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। ফেরদৌসি, শেখ সাদি, হাফিজ ও রুমির মতো প্রখ্যাত পারস্য কবি ও মনীষীদের সাহিত্য এ অঞ্চলের মানুষের চিন্তা ও সংস্কৃতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে উল্লেখ করে তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গানে ইরানের মানুষের প্রতি মমত্ববোধের কথাও স্মরণ করেন।
বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের ফলে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর উন্নয়নশীল দেশগুলো বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। যেকোনো বিরোধ নিরসনে সংলাপ, পারস্পরিক সমঝোতা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর জোর দেওয়ার বাংলাদেশের নীতিগত অবস্থান এ সময় তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ইরানে প্রাণহানির ঘটনায় রাষ্ট্রপতি গভীর শোক প্রকাশ করেন। ইরানের সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সে দেশের মাটিতে ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানান তিনি। বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মুসলিম উম্মাহর দৃঢ় ঐক্যের ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি।
ইরানের রাষ্ট্রদূত মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে বাংলাদেশের গঠনমূলক ভূমিকার উচ্চ প্রশংসা করেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের অংশগ্রহণের বিষয়টি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। ভবিষ্যতে বাণিজ্য, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বাংলাদেশ ও ইরান একযোগে কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত।
সাক্ষাৎ শেষে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রদূতকে তাঁর দায়িত্ব পালনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, তাঁর এই কার্যকাল ঢাকা ও তেহরানের মধ্যকার সুদৃঢ় সম্পর্ককে আরও এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এ সময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইরানি দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।