অর্থনীতি: বিশ্বব্যাপী আলোচিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। এ নিয়ে টানা ৯৮ বারের মতো পেছানো হলো এই চাঞ্চল্যকর মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা।
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্ধারিত দিন থাকলেও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত মামলাটির পরবর্তী প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৯ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রোকনুজ্জামান।
২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে সুইফট ব্যবস্থা হ্যাক করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার (তৎকালীন সময়ে প্রায় ৮১০ কোটি টাকা) চুরি করে নেয় আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধী চক্র। পরবর্তীতে ফিলিপাইনের ক্যাসিনো ও ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে এই অর্থ পাচার করা হয়। আন্তর্জাতিক এই হ্যাকিংয়ের পেছনে দেশের অভ্যন্তরীণ কোনো শক্তিশালী চক্র জড়িত ছিল বলেও ধারণা করা হয়।
ঘটনা ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ (যুক্তরাষ্ট্রের ফেড থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি)।
মামলা দায়ের ১৫ মার্চ ২০১৬ (মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে)।
বাদী জোবায়ের বিন হুদা (উপপরিচালক, অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্ট, বাংলাদেশ ব্যাংক)।
তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি (১৬ মার্চ ২০১৬ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত)।
বর্তমান অবস্থা ৯৮ বার প্রতিবেদন দাখিল ব্যর্থ, পরবর্তী তারিখ ১৯ অক্টোবর ২০২৬।
ঘটনার প্রায় এক মাস পর ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়। পরদিন ১৬ মার্চ আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে সিআইডিকে তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করেন।
তদন্তভার গ্রহণের পর দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও সিআইডি ঘটনার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত দেশি ও বিদেশি চক্রের চূড়ান্ত খসড়া বা চার্জশিট আদালতে পেশ করতে পারেনি। এর ফলে মামলাটি বিচার প্রক্রিয়ায় পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।