মহসিন নাকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানালো ভারত
এসিসি সভাপতি মহসিন নাকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নারী এশিয়া কাপের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান বয়কট করেছে ভারতীয় নারী ক্রিকেট দল।
খেলাধুলা: ‘আপনি তাঁর রানআপ দেখতে দেখতে বল দেখা ভুলে যাবেন।’ ক্যারিবিয়ান পেস কিংবদন্তি অ্যান্ডি রবার্টসের এই বিখ্যাত উক্তিটি যার সঙ্গে জড়িত, সেই ‘হুইসপারিং ডেথ’ খ্যাত মাইকেল হোল্ডিং এবার মুখ খুলেছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খানকে নিয়ে। কারাগারে বন্দি ইমরানের সঙ্গে যে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে, তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এই জ্যামাইকান পেসার। তাঁর স্পষ্ট কথা—এমনকি কোনো খুনির সঙ্গেও এমন আচরণ করা হয় না।
ইমরান খান বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি আছেন। গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি থাকা ৭৩ বছর বয়সী এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা নিয়ে সম্প্রতি ক্রিকেট বিশ্বে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর আগে প্যাট কামিন্স, ব্রায়ান লারা, ওয়াসিম আকরামসহ ২২ জন আন্তর্জাতিক সাবেক অধিনায়ক পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বরাবর খোলা চিঠি পাঠিয়ে ইমরানের সুচিকিৎসা, মৌলিক অধিকার ও মুক্তির দাবি জানিয়েছিলেন। হোল্ডিং সেই উদ্যোগের প্রতি শতভাগ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
ক্রিকেট মাঠের লড়াই ছাড়িয়েও ইমরান খানের সঙ্গে ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের সুসম্পর্ক রয়েছে মাইকেল হোল্ডিংয়ের। লন্ডনে ইমরানের ক্যানসার হাসপাতালের জন্য তহবিল সংগ্রহ অভিযানেও তাঁর সঙ্গে ঘুরেছিলেন হোল্ডিং। সেই পুরোনো স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “আমি মানুষটিকে ভালোভাবে জানি এবং তিনি ঠিক কী ধরনের মানুষ, তা আমার জানা আছে। বর্তমান পরিস্থিতি এবং ইমরান খানের সঙ্গে যা ঘটছে, তা দেখা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
হোল্ডিং ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যে অধিনায়কেরা ওই চিঠি লিখেছেন, আমি তাঁদের পুরোপুরি সমর্থন করি। মানুষটিকে যেন সাধারণ মানুষের মতো চিকিৎসা দেওয়া হয়—সেই চেষ্টার প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। কেউ মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ করে না। খুনির সঙ্গেও এমন আচরণ করা হয় না। তাহলে এই মানুষটির সঙ্গে কেন এমন আচরণ করা হবে, তার কোনো কারণ আমি দেখি না।” তাঁর মতে, বিশ্বজুড়ে ইমরান খানের যে বিশাল পরিচিতি ও খ্যাতি রয়েছে, তার পেছনে কোনো ধরনের ঈর্ষা কাজ করছে কি না—সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে ধারাভাষ্যে কিংবদন্তিতুল্য হয়ে ওঠা এবং ২০২১ সালে ধারাভাষ্যকে বিদায় জানানো হোল্ডিংয়ের এই জোরালো অবস্থান প্রমাণ করে যে, রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে কেবল মানবিক ও মৌলিক অধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকেই ইমরান খানের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিশ্ব ক্রিকেটের এই মহানায়ক।